ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মেগা নিলামের প্রথম দিনে অবিক্রিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। এবার দ্বিতীয় দিনের শেষ মুহূর্তে ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যের বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেনি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি।
রোববার দ্বিতীয় দিনের নিলামের শেষ দিকে ফের তোলা হয় সাকিবের নাম। কিন্তু আগের দিনের মতোই অবিক্রিত থাকেন তিনি।
২০১১ সালে প্রথম আইপিএলে খেলেছিলেন সাকিব, কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে। ২০১২ সালে টানা দ্বিতীয় মৌসুম খেলার পর ২০১৩ সালে তিনি চোটের কারণে খেলতে পারেননি একটি ম্যাচও। তবে কেকেআরের স্কোয়াডে ছিলেন। ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত চার মৌসুম খেলার পর কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দেয়।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনি খেলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। কেবল নিষিদ্ধ থাকার কারণে ২০২০ সালে আইপিএলে ছিলেন না বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। ২০২১ সালে কলকাতায় আবারও ফেরেন তিনি। এবার নিলামেই কেউ কিনল না তাঁকে। নিলামে বিক্রি না হলেও খেলার সম্ভাবনা থাকে। কোনো ক্রিকেটার চোট বা অন্য কারণে আইপিএল খেলতে না পারলে তখন বদলি হিসেবে খেলতে পারেন সাকিব।
এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন সাকিব। প্রথম তিন ম্যাচে সেভাবে রানের দেখা পাননি। চতুর্থ ম্যাচ থেকে ফর্মে ফেরেন। সে ম্যাচে করেছিলেন ২৭ বলে ৪১। সাকিবের ব্যাট এরপর থেকে হাসছেই। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স এমন—৪১ রান ও ১০ রানে ২ উইকেট, ৫০ রান ও ২৩ রানে ৩ উইকেট, ৫০ রান ও ২০ রানে ২ উইকেট, ৩৮ রান ও ২৩ রানে ২ উইকেট এবং অপরাজিত ৫১ রান ও ২১ রানে ১ উইকেট।
সব মিলিয়ে সাকিব এবারের বিপিএলে ৯ ম্যাচে করেছেন ২৭৬ রান, ৩৪.৫০ গড়ে। রান তুলেছেন ১৪৬.৮০ স্ট্রাইক রেটে। আর বোলিংয়ে নিয়েছেন ১৫ উইকেট, ১১.৭৩ গড়ে। ওভারপ্রতি দিয়েছেন মাত্র ৪.৯৫ করে রান। সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহকের তালিকায় সাকিব আছেন চার নম্বরে, উইকেটশিকারির তালিকায় আছেন তিনে।
এমন ফর্মের পরেও আইপিএলে দলই পেলেন না সাকিব!
সাকিব দল না পেলেও এর আগে নিলামের প্রথম দিনে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপিতেই তাকে কিনেছে দলটি। আগের মৌসুমে তিনি রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে খেলেছিলেন। কিন্তু এবার তাকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেনি তারা।
