নজর২৪, সিলেট- ছেলে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আমরন অনশনে নেমেছেন সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম।
রবিবার সকাল ১১ টা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে অনশনে বসেন। অনশনস্থলে তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। অনশনরত রায়হানের পরিবারের সদস্যদের মাথায় এসময় কাফনের কাপড় (সাদা কাপড়) বাঁধা রয়েছে।
রায়হান হত্যার মূল অভিযুক্ত সদ্য বহিস্কৃত ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ সকল আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তাঁর মা সালমা বেগম।
রায়হানের মা সালমা বেগম জানান- ‘এই ফাঁড়িতেই রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে। এই ফাড়ি থেকে আমার লাশ যাবে। এই কর্মসূচি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে এই ফাঁড়িতে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আজ ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও এসআই আকবরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে থাকা আকবরের সহযোগীদেরও গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এসআই আকবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এর আগে আকবরসহ সকল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টার কর্মসূচি আল্টিমেটাম দেয় এলাকাবাসী। যে আল্টিমেটামের সময় পাড় হয় গত বুধবার। পরে বুধবার ফের নতুন করে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এলাকাবাসী। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বৃহস্পতিবার পিবিআই এর কর্মকর্তাদের সাথে এলাকাবাসী ও রায়হানের পরিবারের সাক্ষাত, শুক্রবার বাদ জুময়া মসজিদে মসজিদে রায়হানের জন্য মোনাজাত ও শনিবার ছিল মানববন্ধন। ২য় ধাপে দেয়া এ কর্মসূচি শেষ হলেও হতাশাই থাকে রায়হানের স্বজনদের। তারা গ্রেপ্তার দেখেননি আকবরসহ সকল অভিযুক্তদের। এমন হতাশায় এবার অনশনে বসলেন তারা।
প্রসঙ্গত, ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।
রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।
মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি লাশ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।
