নাটকীয়তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নির্বাচন। কেবল সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে যে বিতর্ক, জটিলতা আর টানাটানি চলছে, তা ইতিহাসে বিরল। প্রথমে এই পদে বিজয়ী হন জায়েদ খান। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ আপিল করলেন। সেই প্রেক্ষিতে আপিল বোর্ড ভোট পুনর্গণনা করে এবং আবারও জায়েদ জয় পান।
পরবর্তীতে জায়েদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নিপুণ। প্রকাশ্যে আনেন কিছু প্রমাণও। যার ফলে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিষয়টির সমাধানের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনের আপিল বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা তদন্ত করে জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিল করেন এবং নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
আপিল বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে আবার আদালতে আপিল করেন জায়েদ খান। আদালত তার প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিপরীতে পুনরায় আদালতেই আপিল করলেন নিপুণ।
একটি পদ নিয়ে যখন জটিলতা বেড়েই যাচ্ছে, তখন এফডিসিতে দেখা গেল শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে নতুন তালা ঝোলানো! অর্থাৎ আগের চাবি দিয়ে কার্যালয় খোলা যাচ্ছে না।
এটা লক্ষ্য করেন তরুণ নায়ক ও এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত জয় চৌধুরী। তিনি এফডিসিতে শুটিং করছিলেন। এর ফাঁকে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য শিল্পী সমিতির কার্যালয়ের সামনে যান। কিন্তু তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে কার্যালয়ের দরজা খুলতে পারলেন না।
পরক্ষণেই জানা যায়, শপথগ্রহণ শেষে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের পক্ষ থেকে তালা পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভেতরের দুটি চেয়ারও নাকি বদলে ফেলা হয়েছে। চেয়ার ও তালা বদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির সদ্য নির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক।
জয় চৌধুরী মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে জয় বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত কমিটির মানুষদের বিরুদ্ধে কথা বললে বা সমালোচনা করলে সেটা আমাদের গায়েই পড়বে। তারা ভালো কাজ করলেও আমার শরীরে এসে লাগবে, খারাপ কাজ করলেও লাগবে।’
চাবি কার কাছে আছে তাও জানেন না জয়। তবে চেয়ার পরিবর্তনের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন উল্লেখ করে তরুণ এই অভিনেতা বলেন, ‘চেয়ার পরিবর্তন করার বিশেষ কোনো কারণ থাকতে পারে। হয়তো এখানে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব কোনো মতের ব্যাপার রয়েছে। কিন্তু তালাচাবি পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে পারছি না। এর আলাদা কোনো বেনিফিট আছে কিনা আমি জানি না।’
‘চার বছর ধরে সমিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। এর আনাচে-কানাচে কোথায় কী রয়েছে আমার সব জানা আছে। এখানে সোনাদানা লুকানো নেই যে চুরি হয়ে যাবে।’ বলেন জয়।
