বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের পর সাধারণ সম্পাদকের পদ যাওয়া জায়েদ খানকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না এই সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি মিশা সওদাগর।
রোববার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। মিশা সওদাগর বলেন, ‘জায়েদ কী করবে এটা তিনিই বলতে পারবেন। তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আপিল বোর্ডের কাছে নিপুণের করা অভিযোগে প্রার্থিতা হারান জায়েদ। এ ঘটনার পর শনিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় নিপুণকে।
নিপুণকে নিয়ে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন ও কাঞ্চন-নিপুন প্যানেল থেকে জেতা প্রার্থীরা রোববার বিকেলে এফডিসিতে শপথ গ্রহণ করেন।
আগে প্রতি বার নির্বাচিত সভাপতিকে নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়ালেও এবার কাঞ্চনকে শপথ পড়ান বিদায়ী সভাপতি মিশা সওদাগর।
এর কারণ হিসেবে মিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রধান পীরজাদা শহীদুল হারুনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় আলমগীর ভাইসহ অনেকেই আমাকে অনুরোধ করেছে শপথ পড়ানোর জন্য।’
‘আর এটা আমি করতেও পারি। কারণ, বিদায়ী সভাপতি দায়িত্ব তুলে দেবেন নতুন সভাপতির কাছে। শপথ পড়ানোর মাধ্যমে সে কাজটি আমি করলাম।’
মিশা-জায়েদ চার বছর ক্ষমতায় ছিলেন শিল্পী সমিতির। জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল ও হেরে যাওয়ার ব্যাপারটি তাকে পীড়া দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন মিশা।
শপথে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে জয়ী প্রার্থীরা কেন আসেননি-এমন প্রশ্নে মিশা বলেন, ‘আমি তো ভেবেছিলাম সবাই থাকবে, কিন্তু কেন যে তারা আসেননি সেটা আমার জানা নাই।’
শপথের পর কাঞ্চন-নিপুণের সঙ্গে শিল্পী সমিতির ভেতরে যান মিশা। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কমিটির যে কোনো সাহায্য লাগলে আমি পাশে আছি।’
গত ২৮ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের পরদিন ঘোষিত ফলে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চনকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলে দেখা যায়, জায়েদ খান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৩ ভোটে হারিয়েছেন নিপুণকে।
নির্বাচনের সময়ই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছিলেন নিপুণ। তাতে সাড়া না পেয়ে তিনি আপিল করেন। তার আপিলে ভোট পুনর্গণনা হলেও তাতে ফল একই থাকলে নিপুণ সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনঃভোটের দাবি তোলেন।
সেখানে তিনি অর্থ দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে জায়েদের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুমকিও দেন। পরে নির্বাচনী আপিল বোর্ডে জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য চুন্নুর পদ বাতিলের আবেদন করেন তিনি।
তার আবেদনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে করণীয় জানতে আবেদন করেছিলেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহান।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আপিল বোর্ডকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে গত শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নেন সোহান। তাতে জায়েদ না গেলেও সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় আপিল বোর্ড।
এদিন প্রথমে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী জায়েদ খান টাকা দিয়ে ভোট কেনায় তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। নাটকীয়ভাবে ওই পদে অভিনেত্রী নিপুণকে নির্বাচিত ঘোষণা করে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড।
