নিত্যনতুন ঘটনা মানেই যেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মাত্রই শেষ হলো নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। আর সেখানে নতুন সংযোজন- এটাকে বয়কট করেছে মিশা সওগাদর-জায়েদ খান প্যানেল থেকে বিজয়ীরা। অংশ নেননি শপথ অনুষ্ঠানে।
আসেননি জায়েদ খান, ডিপজল, রুবেল, মৌসুমীসহ অন্যরা। শুধু তাদের তাদের প্যানেলের নাদির এতে অংশ নেন। যিনি কার্যকরী সদস্য চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় আপিল বোর্ডের নির্দেশে জয়ী হন। তবে এতে চমক সৃষ্টি করে হাজির হয়েছিলেন সেই প্যানেলের প্রধান মিশা সওদাগর।
সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনিই নব সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথ বাক্য পড়ান। পরে ইলিয়াস কাঞ্চন সাধারণ সম্পাদক নিপুণসহ নতুন কমিটির ২০জনকে শপথ করান।
অনুষ্ঠান শেষে মিশা নিজ থেকেই সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বরাবরই বলি, এটা মালাবদলের পালা। তাই পেছনের দিকে আমরা না তাকাই। আশা করি, আগামীতে সুন্দর শিল্পী সমিতি গড়ে উঠবে। আমাদের প্রাণপ্রিয় বড় ভাই, ইলিয়াস কাঞ্চন দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি তাকে অনুরোধ করবো সবাইকে নিয়ে এমন কাজ করবেন কোনও ব্যারিয়ার না থাকে। তিনি আলোকিত মানুষ, তার আলোয় উদ্ভাসিত হোক সবকিছু।’
এদিকে মিশা-জায়েদের প্যানেল থেকে জয়ী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জয় চৌধুরী বিএফডিসিতে শুট করলেও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
জয় চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি শপথ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছি। কিন্তু আমাদের প্যানেল থেকে দিকনির্দেশনা না থাকায় আমি যোগ দিইনি।’
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ রোববার বিকেল পৌনে ৬টায় বিএফডিসির মান্না ডিজিটাল স্টুডিয়োর সামনে শুরু হয়।
উল্লেখ্য, ভোটের পর প্রকাশিত ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হন জায়েদ খান। তবে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন নিপুণ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সেটার তদন্তের ভার আসে নির্বাচনের আপিল বোর্ডের ওপর। আপিল বোর্ডই শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জায়েদের প্রার্থীতা বাতিল করে। একইসঙ্গে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণা করে।
তবে এই সিদ্ধান্ত মানছেন না জায়েদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এমনকি আপিল বোর্ডকেও অবৈধ দাবি করেছেন পরপর দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই নায়ক।
