নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়ে হোটেলের ষষ্ঠ তলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিলেন ভারতের রাজস্থানের যোধপুরের এক মডেল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
পুলিশের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, উঠতি মডেলের নাম গুনগুন উপাধ্যায়। তিনি শনিবার রাতে উদয়পুর থেকে যোধপুরের একটি হোটেলে ফেরেন। ওই হোটেলের ষষ্ঠ তলার বারান্দা থেকে তিনি ঝাঁপ দেন। ঝাঁপ দেওয়ার আগে তিনি বাবাকে ফোনও করেন। ফোন করে বলেন, ‘‘আমি নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি। আমি চলে গেলে আমার মুখের দিকে তাকিও।’’ এরপরই তিনি বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেন।
গুনগুনের বাবা গণেশ উপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ওই হোটেলে পৌঁছায়। কিন্তু ততক্ষণে বারান্দা থেকে গুনগুন ঝাঁপ দিয়ে দেন। তবে লাফ দেওয়ার পর নীচে পার্ক করা গাড়ির উপর পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, গুনগুনের বুকে চোট লেগেছে। পায়ের হাড় ভেঙেছে। চিকিৎকরা জানিয়েছেন, তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ার ফলে তাকে টানা রক্ত দিতে হচ্ছে।
তবে কেন তিনি এই কাজ করলেন, তা জানা যায়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয় একটি ফ্যাশন শো-তে অংশ নিয়ে তিনি ওই হোটেলে পৌঁছান সকালে। তারপর সেখান থেকে ঝাঁপ দেন। তাহলে কি পেশাগত বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে কি কোনও সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন? প্রেম ঘটিত কোনও সমস্যা কি ছিল, নাকি এর পিছনে কোনও অন্য কারণ রয়েছে? এসব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এমন তত্ত্বও উঠে আসছে, মডেলিং করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কোনও চক্রে জড়িয়ে পড়েননি তো। অথবা, তাঁকে কোনও ভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়নি তো?
পুলিশ সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে গুনগুন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তাই তাঁর জ্ঞান ফেরার পরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কিন্তু এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে, তার জন্য গুনগুনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, উদয়পুরের হোটেলে গুনগুনের সঙ্গে কিছু ঘটনা ঘটে। সে কথা বাবাকে জানিয়েছিলেনও তিনি।
