গত ১০ জানুয়ারি বিয়ে ও মাতৃত্বের জোড়া চমক দেন ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। এখানেই শেষ নয়; ১২ জানুয়ারি জানান, আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছেন!
তবে হঠাৎ ১৫ জানুয়ারি জানা যায়, নির্বাচন করছেন না তিনি। পরী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন নিজের নাম। তবে বেঁকে বসেন নির্বাচন কমিশন। জানায়, সময় মতো প্রত্যাহারপত্র জমা পড়েনি, তাই নির্বাচনে থাকছেন নায়িকা। থাকবে তার ব্যালট পেপারও।
সে অনুযায়ী শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ছিল তার নাম। যদিও পরীমনিকে প্রচারণায় নামতে দেখা যায়নি। নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসি সরগরম থাকলেও সেখানে একবারও দেখা মেলেনি পরীমনির।
এদিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভোর পৌণে ৬টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হয়। এত দেখা যায়, নির্বাচনে ‘কার্যকরী পরিষদ সদস্য’ পদে হেরেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি। তিনি পেয়েছেন ৭৯ ভোট।
জানা গেছে, ১১টি কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদের বিপরীতে মোট প্রার্থী ছিলেন ২৪ জন। ভোটপ্রাপ্তির দিক দিয়ে পরীমনি ২২তম অবস্থানে রয়েছেন। তার সমান ৭৯টি ভোট পেয়েছেন অভিনেতা শাকিল খানও। পরীমনি ও শাকিল খানের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন শুধু রবিউল ইসলাম হরবোলা। তিনি পেয়েছেন ৪৭টি ভোট।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনে পরীমণি ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন প্যানেল থেকে প্রার্থী হন। পরী অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন, ব্যালট পেপারে নাম থাকলেও তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এমনকি তিনি যদি জিতেও যান, তবুও এই পদ গ্রহণ করবেন না। এছাড়া সম্প্রতি পরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ওপর তিনি এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাই এই জনসমাগমে যাননি তিনি।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কার্যকরী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস। তিনি পেয়েছেন ২৪০ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন অমিত হাসান। এছাড়া সমান ২২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন নায়িকা অঞ্জনা ও মৌসুমী।
নির্বাচিত অন্য ৭ সদস্য হলেন- অরুনা বিশ্বাস (১৯২ ভোট), আলীরাজ (২০৩ ভোট), কেয়া (২১২ ভোট), চুন্নু (২২০ ভোট), জেসমিন (২০৮ ভোট), রোজিনা (১৮৫ ভোট), সুচরিতা (২০৮ ভোট)।
এদিকে, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ১৯১ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মিশা সওদাগর পেয়েছেন ১৪৮ ভোট। ১৭৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হয়েছে জায়েদ খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নিপুন পেয়েছেন ১৬৩টি ভোট।
সহ-সভাপতি পদে ডিপজল (২১৯) ও রুবেল (১৯১), সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সাইমন সাদিক (২১২) জয়ী হয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহানূর (১৮৪), কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আজাদ খান (১৯৩), দপ্তর সম্পাদক হলেন আরমান (২৩২), সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জিতেছেন মামনুন ইমন (২০৩), আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী (২০৫)।
