নজর২৪ ডেস্ক- সময় সুযোগ বুঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সূত্রপাতটা করে দেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুধু সাহিত্য ও রাজনীতি ছাড়াও অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে বিনোদন দুনিয়ার হালহকিকত নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকেন এই বিতর্কিত লেখিকা।
এই মুহূর্তে বিনোদুনিয়ায় হটকেকের মতো বিকোচ্ছে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা হওয়ার খবর। সারোগেসির সাহায্য নিয়ে মা হয়েছেন তিনি। এর মাঝেই তসলিমার কয়েকটি টুইটে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেটপাড়ায়।
টুইটে কোনো নাম না করেই তাঁর প্রশ্ন, ‘এসব মায়েদের অনুভূতি কেমন হয় যখন তারা সারোগেসির মাধ্যমে রেডিমেড সন্তান পেয়ে যান? যে মায়েরা সন্তান জন্ম দেন তাদের মতো এদের অনুভূতিও কি একই রকম থাকে?’
এই একটি টুইটেই অবশ্য থামেননি তসলিমা। তাঁর বক্তব্য, ‘গরীব মহিলারা আছেন বলেই সারোগেসি সম্ভব। ধনীরা সবসময় নিজেদের স্বার্থের জন্য চায় যে সমাজে দারিদ্রতা বজায় থাকুক। সন্তানের যদি এতই ইচ্ছা থাকে তবে একজন ঘরহারা শিশুকে দত্তক নাও। সন্তানদের সবসময় নিজের বংশের ধারা বহন করতে হবে, এটা জঘন্য স্বার্থপরতার পরিচয়।’
বিষয়টা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সারোগেসির মতো একটি বিষয়ের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন অনেকে। অনেকে মহিলাই আছেন যারা সন্তান ধারনে অক্ষম। তাদের জন্য সারোগেসি আশীর্বাদ স্বরূপ। আবার অনেকে দাবি করেছেন প্রিয়াঙ্কাকে কটাক্ষ করেই এই টুইট গুলো করছেন তসলিমা।
যদিও লেখিকার দাবি, যতদিন না ধনী মায়েরাও সারোগেট মা হচ্ছেন ততদিন তিনি বিষয়টাকে মানতে পারবেন না। ঠিক যেমন ভাবে যতদিন না পুরুষরাও ভালবেসে বোরখা পরছেন ততদিন তিনি এই প্রথা মানবেন না। পুরুষের যৌনবৃত্তি শুরু না হওয়া পর্যন্ত যৌনপেশাও মানবেন না।
কারণ এই সবগুলোই মহিলা ও দরিদ্রদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে বানানো হয়েছে বলে মনে করেন তসলিমা।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়ার পর তসলিমা আবার টুইট করেন বিষয়টি নিয়ে।
তিনি লেখেন, ‘আমার সারোগেসি সংক্রান্ত টুইটগুলো সারোগেসি সম্পর্কে আমার বিভিন্ন মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা-নিকের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই জুটিকে ভালোবাসি।’
