বোরখাকে মেনে নেবো, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে : তসলিমা

মুক্তমত ডেস্ক- বিতর্ক আর তসলিমা নাসরিন যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। তাঁর লেখা বই ছাড়াও প্রায়শই তসলিমার করা বিভিন্ন মন্তব্য কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্ট থেকে জন্ম নেয় বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের আঁচ যে একদিন পরেই নিভু নিভু হবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।

এবার তসলিমার লক্ষ্য সারোগেসি। শুক্রবার সন্তানের জন্মের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। জানিয়েছিলেন, সারোগেসির মাধ্যমে মা-বাবা হয়েছেন তাঁরা। এখনই এই নিয়ে এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলতে চাননি তিনি এবং নিক। বরং সকলের কাছে অনুরোধও করেছেন, এ বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে। এরপরেই সারোগেসিকে কেন্দ্র করে তসলিমার একের পর এক টুইট ইন্ধন জুগিয়েছে বিতর্কে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম না তুলে শনিবার রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই লেখিকা। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

“সারোগেসি বিজ্ঞানের চমৎকার একটা আবিস্কার বটে। তবে সারোগেসি ততদিন টিকে থাকবে, যতদিন সমাজে দারিদ্র টিকে থাকবে। দারিদ্র নেই তো সারোগেসি নেই। দরিদ্র মেয়েদের জরায়ু টাকার বিনিময়ে ন’মাসের জন্য ভাড়া নেয় ধনীরা।

ধনী মেয়েরা কিন্তু তাদের জরায়ু কাউকে ভাড়া দেবে না। কারণ গর্ভাবস্থায় জীবনের নানা ঝুঁকি থাকে, শিশুর জন্মের সময়ও থাকে ঝুঁকি। দরিদ্র না হলে কেউ এই ঝুঁকি নেয় না।

গৃহহীন স্বজনহীন কোনও শিশুকে দত্তক নেওয়ার চেয়ে সারোগেসির মাধ্যমে ধনী এবং ব্যস্ত সেলিব্রিটিরা নিজের জিনসমেত একখানা রেডিমেড শিশু চায়। মানুষের ভেতরে এই সেলফিস জিনটি, এই নার্সিসিস্টিক ইগোটি বেশ আছে। এসবের উর্ধে উঠতে কেউ যে পারে না তা নয়, অনেকে গর্ভবতী হতে, সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হলেও সন্তান জন্ম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সারোগেসিকে তখন মেনে নেবো যখন শুধু দরিদ্র নয়, ধনী মেয়েরাও সারোগেট মা হবে, টাকার বিনিময়ে নয়, সারোগেসিকে ভালোবেসে হবে। ঠিক যেমন বোরখাকে মেনে নেবো, যখন পুরুষেরা ভালোবেসে বোরখা পরবে। মেয়েদের পতি তালয়কে মেনে নেবো, যখন পুরুষেরা নিজেদের পতিত-আলয় গড়ে তুলবে, মুখে মেকআপ করে রাস্তায় ত্রিভঙ্গ দাঁড়িয়ে কুড়ি-পঁচিশ টাকা পেতে নারী-খদ্দেরের জন্য অপেক্ষা করবে।

তা না হলে সারোগেসি, বোরখা, পতি তা বৃত্তি রয়ে যাবে নারী এবং দরিদ্রকে এক্সপ্লয়টেশানের প্রতীক হিসেবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *