দড়ির সূত্র ধরে শিমু হ ত্যার রহস্য উদঘাটন, জানা গেল আদ্যোপান্ত

নজর২৪ ডেস্ক- চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে হ ত্যার পর তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কারণ দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রোববার রাত১২টায় রাজধানীর কলাবাগান থানায় এই জিডি করা হয়।

এর আগে নোবেল তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহযোগিতায় শিমুর মরদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরেন। মরদেহ কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ উত্তরে পাকা রাস্তা সংলগ্ন ঝোপের ভেতর ফেলে আসা হয়।

সোমবার সকালে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর আটক করা হয় শিমুর স্বামী নোবেলসহ দুজনকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিমু হ ত্যাকাণ্ডের তদন্তের শুরুতেই একটি প্লাস্টিকের দড়ির সূত্র ধরে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার পরই শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭) গ্রেফতার করে পুলিশ।

তদন্তের সঙ্গে জড়িত পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শিমুর লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। একইসঙ্গে অভিনেত্রী শিমুর বাসায় গিয়েও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে।

সূত্রমতে, বাসায় তল্লাশির এক পর্যায়ে শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে এক বান্ডেল দড়ি পাওয়া যায়। লাশ গুম করতে বস্তা দুটি যে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল সেই দড়ির সঙ্গে এর মিল রয়েছে। গাড়িটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করা ছিল এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ছিল। ফলে পুলিশের সন্দেহ জোরদার হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিমুর স্বামী নোবেলকে আটক করা হয়।

এরপর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ শিমুকে হ ত্যার কথা স্বীকার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে শিমুর স্বামী পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে হ ত্যা করেছেন। ১৬ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গ লাটি পে হ ত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন। পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ দুটি পাটের বস্তায় ভরেন। এরপর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বস্তা দুটি সেলাই করেন। তারপর তারা বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নোবেলের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ গাড়ি নিয়ে মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের দিকে যান। সেখানে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোঁপের ভেতর লাশটি ফেলে দেন।

কলাবাগান থানায় নোবেলের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব হাসান বলেন, ‘জিডিতে নোবেল উল্লেখ করেছেন যে তার স্ত্রী সকালে কাউকে না বলে বেরিয়েছেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

স্ত্রীকে হ ত্যার পর নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতেই নোবেল জিডি করেছেন- এমন ধারণা কলাবাগান থানা পুলিশের।

পুলিশ পারিবারিক কলহের কথা বললেও শিমুর ভাই খোকন বলছেন, ‘টুকটাক সমস্যা সব পরিবারেই থাকে। এমন কোনো সমস্যা ছিল না, যেটার জন্য শিমুকে মেরে ফেলতে হবে।’

‘ওই বাড়িতে আমাদের অন্য আত্মীয়স্বজনও থাকেন। শিমুকে হ ত্যার সময় তার দুই সন্তান ওই আত্মীয়দের বাসায় ছিল।’

তবে সন্তানরা নিজ বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় কেন ছিল তা জানাতে পারেননি তিনি।

নোবেল ও ফরহাদ তিন দিনের রিমান্ডে

শিমু হ ত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নোবেল ও নোবেলের বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়েছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক চুন্নু মিয়া মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চান।

শুনানি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

হত্যার কারণ সম্পর্কে নোবেল অনেক কিছুই বলেছেন বলে জানান কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক। রিমান্ড শেষে সেসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *