ঢাকা- করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এরই মধ্যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই বিধিনিষেধের আওতায় আজ থেকে উন্মুক্ত স্থানে যে কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে বের হলেই প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এই নিয়ম না মানলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
গত সোমবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে ট্রেন, বাস ও লঞ্চ মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করবে আগামী শনিবার থেকে। তবে এর জন্য গণপরিবহনে ভাড়া বাড়বে না।
দেশে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ গত কয়েক মাসের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই বিধিনিষেধ এলো। তবে দেশে এখনই লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তা জানান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান বিধিনিষেধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর থাকবে। মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই তাৎক্ষণিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে হোটেল-রেস্তোরাঁ, দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব এবং দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কাৰ্যাবলি/চলাচলে নিম্নোক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।
৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।
৪. ১২ বছরের ঊর্ধ্বের কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকার সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
৫. স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিং-এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহে ক্রু-দের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও দেশের বাইরে থেকে আসা ট্রাকের সঙ্গে শুধু ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৬. ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকার সনদধারী হতে হবে। (ট্রেন-বাস অর্ধেক যাত্রী বহন করবে ১৫ জানুয়ারি থেকে, লঞ্চের তারিখ এখনো জানা যায়নি)
৭. বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড ১৯ টিকার সনদ প্রদর্শন এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।
৮. স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
৯. সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার ও উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করবে।
১০. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।
১১. কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
