নজর২৪ ডেস্ক- আইসক্রিম কে না খেতে পছন্দ করে। বিশ্বজুড়েই ছেলে-বুড়ো সবার পছন্দের শীর্ষে আছে আইসক্রিম। তবে এটি খেতে গিয়ে যদি নাচতে হলে অনেকেই হয়ত ইতস্তত করবেন।
অবশ্য তাতে পরোয়া নেই তুরস্কের এক আইসক্রিম বিক্রেতার। বরং ক্রেতাদের নাচতে ‘বাধ্য করে’ রীতিমতো তারকা বনে গেছেন ‘সিলগিন ডন্ডুরমাজে’ বা ‘ক্ষ্যাপাটে আইসক্রিমওয়ালা’ নামের দোকানটির মালিক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তার আইসক্রিম বিক্রির বিভিন্ন ভিডিও। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই নাচের কৌশল অনুসরণ করে ভিডিও তৈরির জোয়ারও বইছে।
নাচের তালে আইসক্রিম বিক্রির কৌশল শিখিয়ে বিশ্বব্যাপী ঝড় তোলা এই আইসক্রিম বিক্রেতার নাম মেহমেট ডিঞ্চ। মেহমেট পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা হলেও তাকে নাচিয়ে আর গায়ক বললেও কোনো ভুল হবে না।
১৯৮২ সালে তুরস্কের হাটেয় প্রদেশের আন্টাকিয়াতে জন্ম মেহমেট ডিঞ্চের। শৈশবটা কোনোরকম কাটলেও দুরন্ত কৈশোরের সময়টা মোটেও সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে টিকে থাকার লড়াই তাকে নিয়ে যায় ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে। সেখানে শুরু হয় নির্মাণ শ্রমিকের জীবন।
শৈশব থেকেই নাচের প্রতি জোঁক ছিল মেহমেটের। সাইপ্রাসে প্রবাস জীবনে কাজের ফাঁকে এক আধটু চর্চাও চলত, ঝালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতেন নিজেকে। তবে মেহমেট ওই সময়ে নাচ দিয়ে কারও নজর কাড়তে ব্যর্থ হন।
সাইপ্রাসের সাত বছরের প্রবাস জীবন শেষে, যেটুকু সঞ্চয় তা নিয়ে ফেরেন তুরস্কের নিজ শহরে। এরপর আন্টাকিয়ার লারায় শুরু হয় আইসক্রিম বিক্রির পেশা। পর্যটনের জন্য তুরস্কের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। আন্টাকিয়া শহরেও আছে ভ্রমণপিয়াসীদের আনাগোণা। এই সুযোগটাই নিতে চাইলেন মেহমেট।
তবে ব্যবসার শুরুটা একদমই ছিল পানসে। এমন অবস্থায় আইসক্রিম বিক্রির নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে শুরু করেন এই তরুণ।
তুরস্কের মোস্তফা কামাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ইনফরমেটিকসে পড়াশোনা করা মেহমেট বদলে ফেলেন আইসক্রিম বিক্রির ধরন। দোকানে আসা ক্রেতাদের আইসক্রিম পরিবেশনের ফাঁকে শুরু হয় নৃত্য। এক পর্যায়ে ক্রেতাদেরও আমন্ত্রণ জানান নাচের অংশীদার হতে। এই নাচের ভিডিও ভাইরাল হতে শুরু করলে তারকা বনে যান মেহমেট। সেই সঙ্গে এখন দারুণ জমজমাট তার ব্যবসা।
মাস তিনেক আগের কথা। টার্কিশ ইউটিউবার মুয়াজ কালাইজের চ্যানেল ‘টেল মি’তে অতিথি হিসেবে আসেন মেহমেট ডিঞ্চ। সেটি ছিল তার প্রথম ভিডিও সাক্ষাৎকার। সেখানে নিজের তারকা হয়ে ওঠার পেছনের গল্প শোনান মেহমেট।
এই তরুণ জানান, নেচে গেয়ে আইসক্রিম বিক্রির আইডিয়াটি মাথায় আসে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর আগে। তবে এখন থেকে প্রায় নয় মাস আগে এগুলোর ভিডিও ভাইরাল হয়।
মেহমেটের নিজের একটি গান আছে, ‘কালবিমসিন’। গেয়েছেন নিজেই। সেই গানের ছন্দে নেচে গেয়ে আইসক্রিম বিক্রি করেন তিনি। ক্রেতাদের সঙ্গে তার নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কোরিওগ্রাফির কারণে ওইসব ভিডিও ভাইরাল হতে সময় লাগেনি।
আইসক্রিম পার্লারে আসা ক্রেতারাও দারুণ উপভোগ করছেন বিষয়টি। আইসক্রিম খাওয়ার পাশাপাশি মেহমেটের সঙ্গে দেখা করার সুযোগটিও নিতে চান অনেকে।
‘সিলগিন ডন্ডুরমাজে’তে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ আসছেন বলে জানিয়েছেন মেহমেট। ‘টেল মি’তে তিনি বলেন, ‘আইসক্রিম খাওয়া, আমার সঙ্গে দেখা করা এবং নাচতে আসছেন অসংখ্য ক্রেতা।’
তার নাচের ভিডিও বিভিন্ন দেশে পেয়েছে দারুণ জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে দুবাই, কাতার, ওমানে অসংখ্য অনুসারী তৈরি হয়েছে। এখন সেই অনুসারীদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর ছক কষছেন মেহমেট। দুবাইতেও ‘সিলগিন ডন্ডুরমাজে’-এর শাখা খোলার চিন্তাভাবনা চলছে।
