ডা. মুরাদের বার্ষিক আয় ১৪ লাখ, সম্পদ বেশি স্ত্রীর!

নজর২৪ ডেস্ক- প্রতিমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন, আওয়ামী লীগে দলীয় পদ যাওয়া এখন কেন্দ্রের ঘোষণার ব্যাপার। মুরাদ হাসানের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না-এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

 

বলছি ডা. মুরাদ হাসানের কথা। যিনি একদিন আগেও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য ও অশালীন কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

 

মঙ্গলবার মন্ত্রিত্ব হারানোর পর মুরাদকে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকেও বহিষ্কারের প্রস্তাব দলের কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছেন, তারা দলে রাখবেন না নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা নেতাকে।

 

জামালপুর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসানের স্থায়ী ঠিকানা জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার দৌলতপুর উত্তর গ্রামে। পেশায় চিকিৎসক হলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের উৎসের কলামে পেশা বা চাকরি থেকে সরাসরি কোনো আয় প্রদর্শন করেননি তিনি।

 

ডা. মুরাদ হাসানের আয়কর বিবরণী ও হলফনামা বিশ্লেষণ করে তার বাৎসরিক আয় ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৩ টাকা এবং বাৎসরিক ব্যয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়। তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে- দুটি গাড়ি এবং রাজধানীর টঙ্গী ও পূর্বাচলে দুটি প্লটের মালিকানার তথ্য।

 

তবে মুরাদ হাসানের তুলনায় তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। স্ত্রীর ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছয়তলা একটি বাড়ি, বেইলি রোডে একটি ফ্ল্যাট এবং শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো দান সূত্রে পাওয়া বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ডা. মুরাদ হাসান ১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার তার পিতা। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে পাওয়া তথ্যে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদ হাসান গৃহ-সম্পত্তি হিসাবে স্থাবর সম্পদের হিসাবের জায়গায় দৌলতপুরের সরিষাবাড়িতে কৃষি জমি হিসেবে ২৫ বিঘার ২/৫ অংশের মালিকানার ঘোষণা দেন। এছাড়া অকৃষি জমি হিসেবে টঙ্গীতে পাঁচ কাঠার ২/৫ অংশ এবং রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউক থেকে পাওয়া পাঁচ কাঠা জমির বর্ণনা দিয়েছেন।

 

হিসাব বিবরণীতে কৃষি জমির মূল্য ঘোষণা না দিলেও টঙ্গীর জমির মূল্য ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ঢাকার পূর্বাচলের জমির মূল্য ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা দেখিয়েছেন তিনি।

 

এছাড়া যানবাহন, শেয়ার, ব্যাংকে জমা, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ প্রভৃতি খাতে এক কোটি ৫০ লাখ তিন হাজার ৯৬৬ টাকা মূল্য হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ঋণ দেখিয়েছেন তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে জমা দেওয়া আয়কর-বিবরণীতে এমন তথ্য উল্লেখ করেন ডা. মুরাদ।

 

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, তিনি কৃষি খাত থেকে বছরে ৬০ হাজার, বাড়ি কিংবা দোকানসহ অন্যান্য খাত থেকে ভাড়াবাবদ এক লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ এবং ব্যবসা থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন। তবে, পেশা ‘চিকিৎসা’ দেখালেও সে খাত থেকে কোনো আয়ের ঘোষণা নেই হলফনামায়।

 

হলফনামায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ দেখিয়েছেন ২১ লাখ ২৭ হাজার ৩৫ টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ রয়েছে আড়াই লাখ টাকা; আলিকো ইনস্যুরেন্সে এক লাখ ৩৭ হাজার ২৩১ টাকার বিমা, স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের ঘোষণা রয়েছে।

 

এছাড়া মাত্র আট লাখ টাকা মূল্যের পুরাতন একটি গাড়ি, ৭০ লাখ চার হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের নতুন একটি গাড়ির ঘোষণা রয়েছে হলফনামা ও আয়কর বিবরণীতে। নিজ নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ এবং স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসানের নামে ১৫০ ভরি স্বর্ণের মালিকানার ঘোষণা রয়েছে সেখানে। এগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করেছেন ডা. মুরাদ হাসান।

 

জমি বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত ২০ লাখ, শটগান ও পিস্তলবাবদ তিন লাখ এবং পুঁজি হিসাবে ছয় লাখ টাকার ঘোষণাও রয়েছে হলফনামা ও আয়কর বিবরণীতে।

 

হলফনামায় স্ত্রীর নামে দান সূত্রে পাওয়া ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় ছয়তলা বাড়ি, রাজধানীর বেইলি রোডের বেইলি হাইটস-২ এ একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং-১০-ই-২) এবং সন্তানের নামে শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারের বি-৫ এর একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *