নজর২৪ ডেস্ক ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ আরও উত্তরপশ্চিম দিতে এগিয়ে একই অবস্থান করছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগুতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোনসংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘জাওয়াদ’। নামটি প্রস্তাব করেছিল সৌদি আরব।
ভারতীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, জাওয়াদের প্রভাবে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। রাজ্যগুলোয় ইতোমধ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৪৬টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। আরও ১৮টি দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জাওয়াদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে কি না, এ বিষয়ে এখনও পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীন। তিনি বলেন, ‘এই ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে আমরা আগামীকাল (শনিবার) জানাব। তবে বাংলাদেশে এর কিছুটা প্রভাব অবশ্যই থাকবে।’
শৈত্যপ্রবাহের কথা উল্লেখ করে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝিতে দেশে শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।
