নজর২৪ ডেস্ক- নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ হারানো কুমিল্লার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বুকে ও মাথায় ৯টি গুলি লাগে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সোমবার রাত ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের মাথায়, বুকের ডান পাশে, বাম চোখের নিচেসহ বিভিন্ন স্থানে ৯টি গুলি লাগে। সন্ধ্যার আগে যখন কাউন্সিলরকে হাসপাতালে নেয়া হয়, তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল টিম কাউন্সিলরকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আমরা তাকে রাত ৮টার দিকে মৃত ঘোষণা করি। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে আছে।’
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, হরিপদ সাহার পেটের বাম পাশে গুলি লাগে। তার মৃত্যুও হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।
নিহত সোহেল মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র। নিহত হরিপদ সাহা নগরীর সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও অন্তত ৬ জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর ওই ওয়ার্ডের সুজানগর, পাথুরিয়াপাড়া, বউ বাজা ও পাশের সংরাইশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রাত ১০টা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, বালু ব্যবসা, মাদক, ঠিকাদারি ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ওই কাউন্সিলরকে হত্যা করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিকেলে কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এ সময় চারটি মোটরসাইকেল করে আসা অন্তত ১০ জন কালো মুখোশধারী সন্ত্রাসী ওই কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে গুলিবিদ্ধ সোহেল নিজের চেয়ার থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলির আওয়াজে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা সীমান্তবর্তী বউ বাজার এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ কাউন্সিলরসহ আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ওই দুইজনের মৃত্যু হয়।
