বাঁধনের ‘রেহানা’ ইস্যু: এবার তসলিমা নাসরিনকে একহাত নিলেন প্রিন্স মাহমুদ

বিনোদন ডেস্ক- সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসব ঘুরে গত ১২ নভেম্বর দেশে মুক্তি পেয়েছে আলোচিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত এ সিনেমা দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

 

রোববার (২১ নভেম্বর) আজমেরী হক বাঁধন অভিনীত এ সিনেমা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিয়ে হইচই ফেলে দেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সিনেমাটি নিয়ে ‘কড়া’ ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। তার এমন সমালোচনা সঠিক মনে হয়নি গুণী গীতিকার-সুরকার প্রিন্স মাহমুদের। বরং ফেসবুক স্ট্যাটাসে তসলিমাকে এক হাত নিলেন এই শিল্পী।

 

লেখার শুরুতে প্রিন্স মাহমুদ লিখেন, ‘আলোচিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমা নিয়ে এবার সমালোচনা করছে লেখিকা তসলিমা নাসরিন। লিখছে রেহানাকে তার সংবেদনশীল, সৎ বা উদার কোনো মানুষ মনে হয় নাই। হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। এই নার সি সিস্ট বে য়াদব মহিলা তো নিজেই সংবে দনশীল না। ‘আবরার এমনি এমনি মরে গেছে, হ ত্যা ইচ্ছাকৃত নয়’—বলার পর আমি তাকে দীর্ঘদিন একা থাকার জন্য সে অসুস্থ ও ট্রিটমেন্ট নেয়ার পরামর্শ দিলে সে আমাকে ডিলিট করে দেয়। যে নিজের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না সে মুক্তমনা, উদার হয় কেমন করে?’

 

প্রিন্স মাহমুদ মনে করেন তসলিমার লেখা খুবই নিম্নমানের। তা উল্লেখ করে তিনি লিখেন, ‘যে লেখা সামান্য বোঝে, সে-ও জানে যে তসলিমার লেখা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং একটা কবিতা লিখেছি একটু দেখুন না দেখুন না করে বড় বড় লেখকদের পা চেটে একটা জায়গা করে নিয়েছিল মাত্র। আর ডাক্তার এবং মোটামুটি সাদা চামড়ার নাদুস-নুদুস একটা কিছু ছিল বলে বড় লেখকদের সহযোগী হিসেবে জায়গা পেয়ে যায়। দু’একটা নিম্নমানের বইটই লিখলো। অশিক্ষিত মৌলবাদীরাও হৈ হৈ করে উঠল। দেশের বাইরে একটা পার্মান্যান্ট ব্যবস্থা হয়ে গেল। ওরে আর পায় কে?’

 

প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ‘বাংলাদেশ’ খ্যাত গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ লিখেন, ‘আচ্ছা, ও (তসলিমা নাসরিন) সিনেমার কী বোঝে? এই বয়সে অতৃপ্তিতে ভুগছে। কিছু বলদ ফ্যান-ট্যান জুটিয়ে সহমত দিদি, সহমত দিদি শুনতে শুনতে দিন দিন আরো অ্যাবনরমাল হয়ে যাচ্ছে। মুক্তমনা শব্দের পেছন মেরে ছেড়েছে ফাজিলটা…।’

 

এর আগে তসলিমা নাসরিন তার পোস্টে বলেছিলেন…

 

“প্রথম কানে গিয়েছে বাংলাদেশের কোনও ছবি, খুব স্বাভাবিক যে সে ছবিটি দেখার আগ্রহ খুব হবে আমার। ছবিটি দেখার সৌভাগ্য হল কাল রাতে। রেহানা মারিয়াম নূর। ছবিটির প্রধান চরিত্রে আমার মনে হয়নি আছেন কোনও সৎ বা উদার কোনও মানুষ। প্রথম থেকেই তিনি রগচটা, রুক্ষ, স্বার্থপর, একগুঁয়ে, আত্মকেন্দ্রিক। ধার্মিক রেহানাকে যদি নারীবাদী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে ভুল। নারীবাদীদের সংবেদনশীল হতে হয়। যত না সংবেদনশীল তিনি, তার চেয়ে বেশি প্রতিশোধপরায়ণ। তাঁর জন্য কোনও শ্রদ্ধা বা সহানুভূতি জন্মায়না।

 

সিনেমার ক্যামেরা অপারেশন নিয়ে তসলিমা লেখেন, ‘ছবিটি ডেনিশ ডগমা ফিল্মের মতো হাত-ক্যামেরায় শুট করা। টানা মিড-শট। বারবারই জনমানবহীন হাসপাতালের একই করিডর, একই গোলাঘর, একই সংলাপ, একই চেহারা, একই এক্সপ্রেশান। কোনো আউটডোর নেই। কোনো আকাশ-বাতাস নেই। শ্বাস নেয়ার জায়গা নেই।’

 

তসলিমার মতে, ‘ছবিটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের না হয়ে কুড়ি-পঁচিশ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্যের হলে ভালো হতো। অথবা ছবি না হয়ে কোনো ডার্ক নাটক হলে ভালো হতো। সিনেমার বড় পর্দায় না দেখিয়ে মঞ্চে দেখালে ঠিক হতো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *