খালেদাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি, এটাই কি বেশি না?: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে আমার কিছু করার নেই, আমি যেটা করার করেছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।

 

বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে গণভবন থেকে এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে চান কীভাবে বলেন তো, খালেদা জিয়াকে যে বাসায় থাকতে দিছি, চিকিৎসা করতে দিছি এটাই কি বেশি না?’

 

তিনি বলেন, ‘আপনাকে যদি কেউ হ ত্যা করার চেষ্টা করত আপনি কি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন? আপনার পরিবারকে যদি কেউ হ ত্যা করত, আর সেই হ ত্যা কারীকে বিচার না করে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত, তার জন্য আপনি কী করতেন?’

 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি থাকতে হ ত্যাকারীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ‘৯৬ সালে ইলেকশনে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে বসানো হলো, যেখানে আমি বিরোধী দলের নেতা ছিলাম, সেখানে বসানো হলো কর্নেল রশিদকে। কে করেছিল, খালেদা জিয়া’।

 

তিনি বলেন, ‘খায়রুজ্জামান আসামি, তার মামলার রায় হবে, চাকরি নাই, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সে আসামিকে চাকরি দিল ফরেন মিনিস্ট্রিতে, অ্যাম্বাসেডর করে পাঠাল’।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবার গ্রে নেড হা মলার পর বলল কী, আমি নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে আ ত্ম হ ত্যা করতে গিয়েছিলাম। কোটালিপাড়ায় বো মা পোতার আগে তার বক্তব্য কী ছিল, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। সে ভেবেছিল মরেই তো যাব, রাখে আল্লাহ মারে কে আর মারে আল্লাহ রাখে কে’?

 

‘এখন আমার বেলায় সেটা হচ্ছে যে, রাখে আল্লাহ মারে কে?’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘সেখানে তারপরও খালেদা জিয়ার জন্য এত দয়া দেখাতে আমাকে বলেন, এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিত। যারা আমার বাপ-মা-ভাই আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হ ত্যা করেছে… তারপরও আমরা অমানুষ না, অমানুষ না বলেই তাকে অন্তত আমার নির্বাহী ক্ষমতা যেটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তার বাসায় থাকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। তারপর দুর্নীতি করে করে এ দেশটাকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে’।

 

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি ইলেকশন নিয়ে প্রশ্ন করে কীভাবে। জিয়া হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে এসেছে। এরপর তার অন্য নির্বাচনগুলো কি নির্বাচন ছিল? ১৯৮১ সালে নির্বাচনে কি হয়েছিল, তা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে চলে? ইলেকশন কীভাবে করবে তারা। করতে হলে সাংগঠনিক শক্তি দরকার, তা তো তাদের নাই। তৃণমূলে এমনভাবে উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ তাতে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। তারা গ্রে নে ড হা মলা, গুপ্ত হ ত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। বিদেশ থেকে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের নেতারা। তারা ক্ষমতায় এসেছে অ স্ত্রে র মাধ্যমে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ পরবর্তী বিভিন্ন হ ত্যা কা ণ্ডে জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত।

 

১৯৭৫ সালের পর সংঘটিত বিভিন্ন ক্যুতে সেনাবাহিনীর হাজার হাজার অফিসার ও মুক্তি’যো’দ্ধাদের হ ত্যা করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান সরাসরি এগুলোতে জড়িত ছিলেন। তার নির্দেশে প্রহসনের বিচারের জন্য সামরিক আদালত বসানো হয়েছিল। কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন তার প্রকৃত সংখ্যা বের করা যায়নি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *