ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



মালালা বোরকা পরলে, স্বামীকে তালাক দিলেও অবাক হব না : তসলিমা

প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২১

মালালা বোরকা পরলে, স্বামীকে তালাক দিলেও অবাক হব না : তসলিমা

নজর২৪ ডেস্ক- সম্প্রতি নিজের বিয়ের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান নোবেল জয়ী সমাজকর্মী মালালা ইউসুফজাই। ব্রিটেনের বার্মিংহামে পাকিস্তানি ক্রিকেট কর্তাকে বিয়ে করেছেন তিনি। সেই বিয়ের মুহূর্ত টুইটও করেন তিনি। আর এরপরই নানা মহলে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

 

কারণ কয়েকমাস আগেই মালালা বিয়ের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। মালালার বিয়ে প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষভরা একের পর এক পোস্ট করছেন ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি লেখিকা তাসলিমা নাসরিনও।

 

ফেসবুকে দেওয়া তসলিমা নাসরিনের সবশেষ স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

 

এ বছরের জুলাই মাসে মালালা বলেছিল বিয়েতে সে বিশ্বাসী নয়, সে বুঝতেই পারেনা লোকে কেন বিয়ে করে, বলেছিল ভালোবাসলে বিয়ে কেন, লিভ ইন সম্পর্ক করলেই তো পারে। সেই মালালা ঠিক তিন মাস পর নভেম্বরেই বিয়ে করে বসলো। সে কি প্রেম করে বিয়ে করলো নাকি এরেঞ্জ ম্যারেজ, কে জানে! ভেবেছিলাম মেয়েটি অক্সফোর্ডে পড়তে গিয়েছে, সেখানে একসময় পিএইচ ডি করবে, ডক্টরেট করবে। মেয়েটি তো মেয়েদের শিক্ষার কথাই বিশ্ব জুড়ে বলেছে।

 

কট্টর পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের বেশিদূর পড়তে দেওয়া হয় না, সেখানে সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে সে মেয়েদের প্রেরণা হবে। নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে, স্বনির্ভর হয়ে মেয়েদের সে উৎসাহিত করবে। মালালা যে সুযোগ পেয়েছিল সে সুযোগ তো পৃথিবীর অধিকাংশ মেয়ে পায় না। সুযোগের সদব্যাবহার সে করতে পারতো। সে তো শুধু পাকিস্তানের সোয়াত ভ্যালির বালিকা মালালা ছিল না, সে ছিল দুনিয়ার কোটি বালিকার আইকন। কী শিখবে তারা মালালার কাছ থেকে! মেয়েরা যে সমাজে বাল্য বিবাহের শিকার, অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়, পরনির্ভর জীবন মেনে নিতে বাধ্য হয়- সেই সমাজকে বদলে দিতে পারতো সে।

 

ভেবেছিলাম মালালা যেহেতু বুদ্ধিমতী, সে কোনো স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ যুবকের সঙ্গে প্রেম করে তার পছন্দের লিভ ইন সম্পর্ক করবে। যেহেতু ইংরেজের দেশে থাকে, কোনো ইংরেজের সঙ্গেই হয়তো। নিজে অক্সফোর্ডের অধ্যাপক হয়ে অক্সফোর্ডের আরেক অধ্যাপকের সঙ্গেই হয়তো। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রি না নিয়েই মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করে বসলো মালালা, তাও এক পাকিস্তানি মুসলিমকে!

 

ওমা, যেইনা আমি টুইটারে আমার বিষ্ময় প্রকাশ করেছি, আমাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলছিল হাজারো তালি বান এবং তালি বান পন্থী লোকেরা। সে কী কটাক্ষ মানুষের! ছি ছিঃ, সাদাকে বিয়ে করবে, ইংরেজকে বিয়ে করবে, ছি ছিঃ। কেউ কেউ বললো পাকিস্তানিদের মধ্যে কি প্রগতিশীল নেই? বলি নিশ্চয়ই আছে, স্মার্ট হ্যান্ডসাম প্রগ্রেসিভ তো ইমরান খানই ছিলেন!

 

এক ই হু দি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন! সেই মেয়েকে তো তারপর ইসলাম গ্রহণ করালেন, এখন বাস করছেন ভূতুড়ে এক বোরখাওয়ালির সঙ্গে, চোখ ছাড়া যার আর কিছু দেখা যায় না, যার চেহারা না দেখেই ইমরান খান বিয়ে করেছেন, ভবিষ্যত বলে দিতে পারেন মহিলা, এই বিশ্বাস তাঁর।

 

সাদাকে, ছিঃ সাদাকে কেন বিয়ে করবে মালালা ছিঃ। ছিঃ ছিঃ তে আমার টুইটার ভেসে গেল। কী! এই বর্ণ বাদীরা ভুলে গেছে সাদারাই মালালাকে বিখ্যাত বানিয়েছে! সাদারা চিকিৎসা করেছে, জীবন বাঁচিয়েছে, সাদারা তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে, সাদারা বই লিখে দিয়েছে, ফান্ড গড়ে দিয়েছে, সাদারা নিরাপত্তা দিয়েছে, নিশ্চিন্তি দিয়েছে, নোবেল দিয়েছে।

 

সাদারা সব দেবে, কিন্তু কোনো সাদার সঙ্গে প্রেম করা চলবে না, সাদাকে বিয়ে করা চলবে না। মালালা যদি পড়াশোনা আর চালিয়ে না যায়, আমি অবাক হবো না। যদি কিছুদিন পর বোরখা পরে, অবাক হবো না। যদি স্বামীকে তালাক দেয়, তাতেও অবাক হবো না।’