বিনোদন ডেস্ক- চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। এরপর বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটও পেয়ে যান। কিন্তু তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান শ্রাবন্তী। এতে করে তার ভাগ্যে জোটে ‘অসম্মান’।
কখনো বিরোধী দল, কখনো বা নিজের দলের কর্মীরা তাকে নিয়ে নানা কটু-মন্তব্য করেন। বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায় প্রশ্ন তুলেছিলেন—কেন তাকে নির্বাচনের টিকিট দেওয়া হলো। সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে তখন জল ঘোলা কম হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রাবন্তী। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে বিজেপির হয়ে যত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার আগেই সেসব ছবিও মুছে ফেলেছেন তিনি।
শ্রাবন্তীর এই বিজেপি-ত্যাগ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিজেপিতে থাকলে টলিউডে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা গেরুয়া শিবির ছাড়ছেন।”
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, এরপরই শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপি ত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরাত জাহান বলেন, “কাজ না পাওয়ার সমস্যা বোধহয় কেউ ফেস করে না। যাঁরা বিজেপির রাজনৈতিক মুখ তাঁরাই এই ধরনের সমস্যা নিয়ে এসে বলেন যে এখানে কেউ কাজ পায় না।
আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যাঁরা অন্য দলে থেকেও এখানে কাজ করছে এবং আমার মনে হয় কাজের সঙ্গে কিংবা সিনেমার সঙ্গে রাজনীতির যোগাযোগ কোথাও নেই। আমি নিজে একজন রাজনীতিবিদ। কিন্তু সিনেমা জগতে কাজ করছি। কোথায় রাজনীতি বলুন তো? এভাবে দুটোকে মিলিয়ে মানুষকে কনফিউজ করা উচিত নয়। রাজনীতির বিষয়টা আলাদা রাখা উচিত। আমার মনে হয় এখানে সকলে প্রতিভার ভিত্তিতে কাজ পান।”
এদিকে এদিন শহরের একটি রেডিও চ্যানেলের ইউটিউব টক শো-তেও শ্রাবন্তীকে নিয়ে কথা বলেছেন নুসরত। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ‘‘শ্রাবন্তী আমার বন্ধু। খুব ভাল বন্ধু। যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য ওকে অনেক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। শ্রাবন্তী তৃণমূল করুক, বা বিজেপি, কোনও ক্লাবে গিয়ে পার্টি করুক বা আমার বাড়িতে এসে আমার সঙ্গে পার্টি করুক— ওর পাশে আমি সব সময়ে আছি।’’ শ্রাবন্তীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইলেন না সাংসদ।
গত ১ মার্চ বিজেপি-তে যোগ দেন শ্রাবন্তী। নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ভোটে পরাজিত হন। তার পর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপি-র সঙ্গে দূরত্ব। অবশেষে দল ছেড়ে দিলেন অভিনেত্রী।
