ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



১৪ মাসে কোরআনের ক্যালিগ্রাফি এঁকে তাক লাগালেন ভারতীয় তরুণী

প্রকাশিত: ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২১

১৪ মাসে কোরআনের ক্যালিগ্রাফি এঁকে তাক লাগালেন ভারতীয় তরুণী

নজর২৪ ডেস্ক- ১৯ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী ফাতিমা সাহাবা। থাকেন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কান্নুর জেলায়। সম্প্রতি তিনি ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে তৈরি করেছেন পবিত্র কোরআনের একটি প্রতিলিপি। হাতে লেখা অনবদ্য এ প্রতিলিপি তৈরিতে তার লেগেছে ১৪ মাস।

 

গত সপ্তাহে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কুড়োতে থাকেন প্রশংসা। সম্পূর্ণ কোরআনের প্রতিলিপি তৈরিতে যে ‍দৃঢ় মনোবল দরকার, তা দেখিয়েই সবাইকে মুগ্ধ করেছেন ফাতিমা।

 

ফাতিমা সাহাবা বলেন, এটি তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নিতেন এবং মাগরিবের নামাজ পড়ে বসে যেতেন ক্যালিগ্রাফিতে।

 

তিনি আরও জানান, শৈশব থেকেই আঁকাআঁকিতে ঝোঁক ছিল তার। পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলোও তাকে আলাদাভাবে আকর্ষণ করতো। এরপরই তার মাথায় এলো ক্যালিগ্রাফির চিন্তা।

 

কোরআনের ক্যালিগ্রাফির কাজে হাত দেওয়ার আগে ফাতিমা সাহাবার বাবা একজন মওলানার সাথে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ফাতিমা কোরআন নকল করতে পারেন কিনা। তবে এনিয়ে কোন ধর্মীয় বিধিনিষেধ না থাকার ফলে ফাতিমাকে অনুমতি দেওয়া হয়।

 

“আমি বাবাকে বললাম আমাকে কালো বল পয়েন্ট কলম আর ছবি আঁকার কাগজ কিনে দিতে। কাছের একটি দোকান থেকে বাবা সব জোগাড় করলেন।

 

“গত বছর অগাস্ট মাসে আমি ক্যালিগ্রাফির কাজ শুরু করি এবং ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ করি। আমার পরিবারের সবাই আমাকে এ কাজে সহযোগিতা করেছে।”

 

ফাতিমা জানতেন তিনি যে কাজে হাত দিয়েছেন, সেটি কত বড় কাজ। তাই কাজটা তিনি যেনতেনভাবে শেষ করতে চাননি।

 

তিনি বলেন, আমার ভয় ছিল যে আমি হয়তো কোরআন ক্যালিগ্রাফির কাজে কোন একটা ভুল করে ফেলবো,ছবি আঁকার সময় আমার মা তাই আমার পাশে বসে থাকতেন, এবং কোথাও কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখলে সেটা ধরিয়ে দিতেন।

 

যাতে কোন ধরনের ভুল না হয় সে জন্য ফাতিমা প্রথমে পেন্সিল দিয়ে ক্যালিগ্রাফের নকশা তৈরি করতেন। যখন আমি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতাম যে কোথাও কোন ভুল নেই তারপর আমি কলম দিয়ে নকশাগুলোকে পাকা করতাম, বলে জানান তিনি।

 

“আমার শুধু মনে হতো এত বড় এবং কঠিন একটা কাজ কি আমি শেষ করতে পারবো? আমার নিজের ক্ষমতা নিয়েও মাঝে মধ্যে সন্দেহ তৈরি হতো।

 

“কিন্তু দেখা গেল প্রতিদিন কাজটা করতে গিয়ে আমি বেশ আনন্দই পাচ্ছি। ঘণ্টা পর ঘণ্টা সময় যেকোন দিক থেকে কেটে যেত তা টেরই পেতাম না।”

 

কোরআন ক্যালিগ্রাফি করতে গিয়ে ফাতিমা মোট ৬০৪টি পাতা তৈরি করেন।

 

শুরুর দিকে কাজগুলো ভালই ছিল। কিন্তু পরের দিকে কাজ আরও ভাল হয়। করতে করতে হাতের কাজ আরও সুন্দর হতে থাকে, বলে জানান তিনি।