প্রকাশ্যে বিশ্বনেতাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন বাইডেন

biden

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ২০২১ সালে ক্ষমতায় এসেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন।

সোমবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ঐতিহাসিক জলবায়ু সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে বিগত ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্বনেতাদের কাছে ক্ষমা চান বাইডেন। এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বিগত প্রশাসনের ওই পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি খুবই লজ্জিত।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে তার জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে পিছিয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত নয়, তবে আমি এই সত্যের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী যে সাবেক মার্কিন প্রশাসন প্যারিস চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।’

 

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা আমাদের নৈতিক এবং অর্থনৈতিক দায়িত্ব।

 

জো বাইডেন বলেন, ‘গত এপ্রিলে জলবায়ু বিষয়ক লিডারস সামিটে আমি যে উচ্চাভিলাষী টার্গেট নির্ধারণ করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র তা পূরণে সক্ষম হবে। এতে করে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কার্বন নির্গমন ২০০৫ সালের পর্যায়ের চেয়ে ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ কমে যাবে।’

 

রোমে বিশ্বের প্রথম সারির ২০ দেশের ‘জি-২০’ অধিবেশন ছিল সপ্তাহান্তে। আর তার পরেই সোমবার গ্লাসগোয় শুরু হলো জলবায়ু সম্মেলন। এতে যোগ দিচ্ছেন ১২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রনেতা, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকারীরা।

 

সেই যুক্তিতে জলবায়ু নিয়ে যাবতীয় কর্থাবার্তা ‘কপ২৬’-এর ওপরেই ছেড়ে দিল জি-২০। ভাসা ভাসা কিছু আলোচনা হলো বটে। তবে বিশ্বে বিপজ্জনক মাত্রায় কার্বন নির্গমনের ৮০ শতাংশ দায়ভার যাদের, জলবায়ু সমস্যা সমাধানের সব দায়িত্ব তারা ভাগ করে নেওয়ার কথা জানাল ছোট-বড় সব দেশের সঙ্গে।

 

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, জি-২০ সম্মলনে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যা কথা দেওয়া-নেওয়া হলো, তাতে নতুন কিছু নেই। এই গোষ্ঠীর সদস্য সব দেশই জানিয়েছে, আসন্ন বিপর্যয় রুখতে তারা গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা করবে। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতেও অবশ্য এ কথা দিয়েছিলেন রাষ্ট্রনেতারা। যদিও বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটেনি।

 

জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *