নজর২৪ ডেস্ক- বরগুনায় চাঞ্চল্যকর শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় আছেন। শুক্রবার সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন তথ্য জানালেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।
মিন্নির বাবা দাবি করেন, কয়েক মাস যাবত মিন্নির ঘাড়ে ব্যথা, লো প্রেশার ও দাঁতে ব্যথা নিয়ে মারাত্মক অসুস্থ। তিনি আরও বলেন, মিন্নি ঠিকমতো খেতে পারে না। ঘুমাতে পারে না। সব সময় অসুস্থ থাকে। তাই খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। কারাগারের পানি পর্যন্ত খেতে পারে না। মিন্নির মুক্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
মিন্নিকে এক বছরেরও বেশি সময় দেখতে না পেরে কষ্ট নিয়ে মেয়েকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মিন্নির মা।
তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ মিন্নিকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন কারা কর্তৃপক্ষ। তবে মিন্নির বাবার দাবি তাদের ওষুধে মিন্নি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করলেও এখনো উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ পাননি তারা।
মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি বলেন, চোখের পানি ফেলতে ফেলতে দিন পার করছি। করোনার জন্য এক বছরের মধ্যে মিন্নির সাথে দেখাও করতে পারেননি তিনি।
২০১৯ সালের ২৬ জুন ভরদুপুরে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।
সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়। পরে তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের দুই মাসের মাথায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বরগুনার আদালতে মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুই খণ্ডে বিভক্ত ওই অভিযোগপত্রের এক অংশে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। অন্য অংশে রাখা হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের নাম।
বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ ২০২০ সালের প্রথম দিন রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ৭৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মিন্নি ছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য পাঁচ আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আঁকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয় (২২) ও মো. হাসান (১৯)।
পরে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মিন্নিকে গাজীপুরে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে ওই কারাগারেই রয়েছেন তিনি।
ওই বছরই ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।
