নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণির বারবার রিমান্ড মঞ্জুর করার ঘটনায় হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিচারিক আদালতের দুই বিচারক।
রোববার (৩১ অক্টোবর) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি জাহিদ সরোয়ার কাজলের বেঞ্চে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা। আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চান ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলাম।
এর আগে আলোচিত চিত্রনায়িকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরে দুই বিচারকের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী গোলাম মোস্তাফাকেও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। দুই দফা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি হাইকোর্ট।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানোর ঘটনায় দুই বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামকে পুনরায় লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পরীমণিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানো নিম্ন আদালতের দুই বিচারকের দাখিল করা ব্যাখ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, লিখিত ব্যাখ্যায় তারা হাইকোর্টকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই। বিচারকদের ব্যাখ্যায় হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন (হেয়) করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আদালত।
ওই দিন চিত্রনায়িকা পরীমণিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানো দুই বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলাম আদালতের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। পরীমণির মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। এছাড়া পরীমণির বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার সব নথি ও মামলার কেস ডকেটও তলব করা হয়েছে।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওইদিন এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সৈয়দা নাসরিন।
গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে মা দ কদ্রব্য’সহ পরীমণিকে আটক করে র্যাব। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। ওই মামলায় তাকে তিন দফায় যথাক্রমে চার দিন, দুই দিন ও একদিনসহ মোট সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মাঝে একাধিকার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।
পরে মামলায় জামিন আবেদনের শুনানির দিন দেরিতে নির্ধারণ করা নিয়ে জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন পরীমণি। হাইকোর্ট রুল দেন। পরে জজ আদালত পরীমণির জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ এগিয়ে আনেন। গত ৩১ আগস্ট তাকে জামিন দেন। পরদিন পরীমণি কারামুক্তি পান।
হাইকোর্টে পরীমণির আবেদনের শুনানিতে তাকে দফায় দফায় রিমান্ড নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরের ব্যাপারে দুই বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেন।
