চোর সন্দেহে ইকবালকে আটক করেছিল স্থানীয়রা, পাগল ভেবে ছেড়ে দেয় পুলিশ!

নজর২৪ ডেস্ক- কুমিল্লা নগরের নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হন ২১ অক্টোবর। কিন্তু এর চার দিন আগে চকরিয়ায় চোর সন্দেহে তাকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে পাগল ভেবে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

 

অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের নতুন একটি ভিডিও সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে এসেছে। সেই ভিডিওর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, চকরিয়ার একটি এলাকায় হাঁটুর ওপর হাত রেখে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছেন ইকবাল। তাকে ঘিরে কয়েকজন কথা বলছেন।

 

ভিডিওতে ইকবালের পরিচয় জানতে চান এলাকাবাসী। ইকবাল তাদের নিজের নাম ও একটি মোবাইল ফোন নম্বর দেন। এ সময় তার পরনে ছিল জলপাই রঙের টি-শার্ট ও ছাই রঙের প্যান্ট। ডান কাঁধের ওপর ছিল ভাঁজ করে রাখা একটি চেক গামছা।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লায় সহিংসতার ঠিক চার দিন পর অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের চকরিয়ায় একজনের মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় ভিডিওটি।

 

চকরিয়ায় ইকবালকে যারা আটক করেছিলেন তাদের একজন মো. রমজান। তিনি জানান, ১৭ অক্টোবর রাতে চকরিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে খুটাখালীর একটি বাড়িতে ঢোকেন এক যুবক। ওই বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে চোর ভেবে আটকে রাখেন। তখন তার হাতে গামছা পেঁচানো একটি কোরআন শরিফ ছিল।

 

যাচাই করে তারা নিশ্চিত হন কোরআন শরিফটি তাদের নয়। তখন প্রশ্ন করা হয়, এটি তিনি কোথায় পেয়েছেন। জবাবে যুবক জানান, তার নানা এটি তাকে পড়তে দিয়েছেন।

 

রমজান দাবি করেন, কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের ছবি তখনও ফেসবুকে ভাইরাল হয়নি। ফলে তারা জানাতে পারেননি এই যুবকই সেই ইকবাল।

 

ইকবালকে চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে আটকে রাখেন রমজান। সেখানে কেউ একজন ওই ভিডিওটি ধারণ করেন বলে জানান তিনি। রমজান বলেন, ‘আটক ইকবালের তথ্য দিতে আমি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করি। তখন আমার সঙ্গে কথা হয় চকরিয়া থানার ডিউটি অফিসার মঈন উদ্দিনের।’

 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) জুয়েল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ১৭ অক্টোবর রাতে চকরিয়া থেকে রমজান নামে এক ব্যক্তি ৯৯৯ ফোন দেন। ফোনে ওই ব্যক্তি জানান, চোর সন্দেহে একজনকে আটক করেছেন তারা।

 

পুলিশ সেখানে গিয়ে তার নাম জানতে চাইলে তিনি জানান ইকবাল হোসেন, বাড়ি কুমিল্লা। পরে পাগল ভেবে রাত ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

 

এর আগে তার কাছ থেকে নেয়া হয় কোরআন শরিফ ও গামছা। যাওয়ার আগে ইকবালকে দেয়া হয় একটি শার্ট।

 

ইকবালকে ২১ অক্টোবর যখন সুগন্ধা বিচ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার পরনে ওই চেকশার্ট ছিল। গ্রেপ্তারের পর ইকবালকে নেয়া হয় কুমিল্লায়।

 

কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করছেন এমন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টায় কর্ণফুলী ট্রেনে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে যান ইকবাল। সারা রাত চট্টগ্রাম স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কাটিয়ে দেন। পরদিন একটি ট্রাকে উঠে চকরিয়ায় নামেন।

 

সেখানে একটি মাদ্রাসা থেকে কোরআন শরিফ নেন। সন্ধ্যার দিকে কোরআন বের করে একটি বাড়ির সামনে পড়ছিলেন। চারপাশে মানুষের ভিড় জমে। তবে তখন ইকবালের ছবি ভাইরাল হয়নি। ফলে লোকজন জানতে পারেনি এই ব্যক্তিকে।

 

এদিকে চকরিয়ায় পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর হেঁটে এবং কয়েকটি বাস বদল করে ১৯ অক্টোবর মঙ্গলবার কক্সবাজারে পৌঁছান ইকবাল। সেখানে একটি মাদ্রাসায় গিয়ে খাবার চান। খেয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে তিন তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয় ইকবালের।

 

পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে ইকবালকে দেখে তরুণদের সন্দেহ হয়। কুমিল্লার নানুয়াদীঘির পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে এই যুবকের মিল দেখতে পান তাঁরা। তরুণদের মধ্যে একজনের বড় ভাই নোয়াখালী জেলার পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি তাঁর ভাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানান। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইকবালকে আটক করে।

 

এদিকে ইকবাল নে শাগ্র স্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইকবালের মা বিবি আমেনা। তিনি বলেন, ইকবাল গাঁ জাসহ বিভিন্ন ধরনের নে শা য় আ স ক্ত ছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে তাঁকে বিয়ে করানো হয়। কিন্তু নে শা গ্র স্ত হওয়ায় স্ত্রীকে মার ধর করতেন। এর মধ্যে জুবায়ের পে টে ছুরি কা ঘাত করার পর তাঁর পাগলামি শুরু হয়। পাঁচ বছর আগে স্ত্রী তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। বছর না ঘুরতেই আবার বিয়ে করান। সেই বউও এক বছর আগে চলে গেছেন।

 

নতুন সেই ভিডিও দেখুন এখানে- 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *