বিনোদন ডেস্ক- গ্ল্যামার কন্যা পরীমনি সব কিছুতেই ভিন্নতা পছন্দ করেন। ব্যক্তি জীবনে নানা কাজে তার চিহ্ন মেলে। স্বাভাবিকভাবে তার যেকোনো উদযাপন ভিন্নধর্মী এবং প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে তার জন্মদিন উদযাপন ভিন্ন আঙ্গিকে করে থাকেন তিনি।
যেকোনো একটি থিম নির্ধারণ করে সাজানো হয়ে থাকে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠান। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। রবিবার তাঁর জন্মদিনের রাত-উৎসবের নিমন্ত্রণপত্র ছিল বিমানের টিকিটের মতো। ‘বোর্ডিং পাস’ লেখার পাশেই খাঁটি হৃদয় নিয়ে পরীমণির সঙ্গে জীবনভর ওড়ার আহ্বান।
আরও পড়ুন-
পরীমণির জন্মদিনের জমকালো পার্টির স্পন্সর করলো কে?
রাতে নানার সঙ্গে কেক কাটলেন পরীমণি
ঢাকার এক পাঁচতারা হোটেলে জন্মদিনের উৎসব ছিল। বিমানের ককপিটের আদলে সেট তৈরি করা হয়েছে। লেখা ঝুলছে— ‘ফ্লাই উইথ পরীমণি’। বিপদের দিনের বন্ধুদেরই কেবল এ বার ডেকেছেন। জমকালো পার্টিতে খাঁটি হৃদয় নিয়ে সত্যিই ওড়ার স্বাদ! অভিনব এই পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, গত বছর পরীমণির জন্মদিন উৎসবে মূল ভাবনা ছিল ময়ূর। পাঁচতারা হোটেলের সবটুকু জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছিল সবুজ অরণ্য। ঢোকার মুখে ছিল ময়ূরের ম্যুরাল। ভিতরটাও ছিল ময়ূর-পালকে সাজানো। আর স্বয়ং পরীমণি ময়ূরের বেশে ঘুরছিলেন।
গত রাতে নানার স্নেহ-চুম্বনের মাধ্যমে নায়িকার জন্মদিন পালন শুরু হয়। এদিন দিনের বেলায় এতিম ছেলেমেয়েদের সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। আর রাতে উড়ছে পরীর ‘বিশেষ বিমান’।
আরও পড়ুন-
স্কুলের মেধাবী ছাত্রী থেকে যেভাবে আলোচিত নায়িকা পরীমণি
বিনোদন ডেস্ক- নজরকাড়া গ্ল্যামার আর মিষ্টি হাসির কারণে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মনে আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছেন হালের ক্রেজ চিত্রনায়িকা পরীমণি। একের পর এক সিনেমায় নিজেকে তিনি ছাপিয়ে গেছেন অভিনয় দক্ষতায়। দর্শক সমালোচক মহলে চলে এসেছেন জনপ্রিয়তার কাতারে।
জানা যায়, পরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সিংহখালী গ্রামে নানাবাড়িতে। তার আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। দাদাবাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায়। তবে সেখানে কখনো যাওয়া হয়নি তার।
পরীমণি তার জন্মদিন পালন করেন ২৪ অক্টোবর। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজের রেজিস্টারে থাকা তথ্য অনুসারে, তার জন্মদিন ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর। এসএসসি পাসের পর সেখানেই ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
দক্ষিণ সিংহখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় পরীমণির। স্কুল জীবনে দারুণ মেধাবী ছিলেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণিতে তিনি বৃত্তি পর্যন্ত পেয়েছিলেন। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এখনো অব্দি ওই স্কুলে পরী ছাড়া আর কেউই বৃত্তি পাননি। এ কারণে স্কুলের শিক্ষকেরা এখনো তাকে নিয়ে গর্ব করেন।
জীবনে অনেকগুলো বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে পরীমণিকে। মাত্র ৩ বছর বয়সে তার মা আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলেন। এরপর ২০১২ সালে মারা যান তার বাবাও। তাই ছোট বেলা থেকে নানা-নানির আদর-শাসনে বড় হয়েছেন তিনি।
২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন পরীমণি। তবে ক্লাস করেননি। চলে আসেন ঢাকায়। স্বপ্ন ছিল বিনোদন জগতে কাজ করার। সুদর্শনা হওয়ার সুবাদে খুব বেশি সময় লাগেনি কাজ পেতে। মডেলিং দিয়ে শোবিজের পথচলা শুরু হয়। এরপর কিছু নাটকেও কাজ করেন তিনি।
সিনেমায় পরীমণির যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে। ওই বছর তিনি প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। যার ফলে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন এ নায়িকা। তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার নাম ‘ভালোবাসা সীমাহীন’।
পরবর্তীতে তিনি আলোচিত হয়েছেন ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’, ‘রানা প্লাজা’, ‘রক্ত’, ‘অন্তর জ্বালা, ‘স্বপ্নজাল’, বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘স্ফুলিঙ্গ’ সিনেমার সুবাদে।
ঢালিডের লাস্যময়ী এই নায়িকা সম্প্রতি আলোচনায় আসেন মাদক মামলায় কারাগারে গিয়ে। তবে কারামুক্ত হওয়ার পর অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন পরীমণির যাপিত জীবনে প্রভাব পড়বে। দমে যাবেন তিনি, গুটিয়ে নেবেন ব্যক্তি জীবনের সব আয়োজন থেকে। কিন্তু না, আলো ঝলমলের এই ক্যারিয়ারে ২৭ দিনের কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
পরীমণি তার ব্যক্তিগত জীবনকে আগের মতোই উদযাপনের মধ্যে রেখেছেন, স্বাভাবিক রেখেছেন। ব্যস্ত রেখেছেন নতুন নতুন সিনেমার শুটিংয়েও। সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছেন পরী। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল তার জন্মদিন উদযাপিত করেন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে।
বিপদের সাথীদের নিয়েই বিশেষ দিনটি পালন করেন তিনি। তার আগে প্রিয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেন দাওয়াত কার্ড। সেই কার্ডে দেখা গেছে একটি বিশেষ বার্তা। শিরোনামে লেখা: ‘তোমার খাঁটি হৃদয় নিয়ে আমার কাছে এসো এবং আমার সঙ্গে উড়ে বেড়াও চিরদিনের জন্য’।
অন্যদিকে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় গতকালও পরীর সকালটা শুরু পথশিশুদের সঙ্গে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে দিনের আলোয় ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
