বন্যায় ভারত ও নেপালে নিহত ১৩৩, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারত ও নেপালে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১৩৩ জনের। নিখোঁজ রয়েছে অনেক মানুষ। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আর ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে সড়ক, বাড়িঘরসহ বিপুলসংখ্যক স্থাপনা।

 

বুধবার (২০ অক্টোবর) ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

 

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখণ্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত কয়েকদিনের বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১১ জন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয় বলেছেন, তার রাজ্যে মারা গেছেন ৩৯ জন।

 

উত্তরাখণ্ডে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাজ্যের নৈনিতাল অঞ্চলে সাতটি পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। প্রবল বর্ষণ এবং পানির তীব্র স্রোতে রাজ্যে দফায় দফায় ভূমিধসে বেশ কিছু বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়েছে।

 

নৈনিতালের স্থানীয় কর্মকর্তা প্রদীপ জৈন এএফপিকে বলেছেন, নৈনিতালে ভূমিধসে বাড়ি চাপা পড়ে এক পরিবারের পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের আলমোরা জেলায় ভূমিধসে পাথর এবং কাদার নিচে চাপা পড়ে পাঁচজন মারা গেছেন। হিমালয় অঞ্চলের এই রাজ্যের প্রত্যন্ত দু’টি জেলায় সোমবার কমপক্ষে ৬ জন মারা যান।

 

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সতর্কতা জারি করে ওই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, সোমবার বেশ কয়েকটি এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যে কারণে ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

 

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিবেশি নেপালে গত তিন দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত ও আরও ৩১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশজুড়ে নদ-নদীর পানি বেড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এবং ভূমিধসও দেখা দিয়েছে।

 

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফনীন্দ্র মণি পোখারেল চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা সিনহুয়াকে বলেছেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত এবং ৩১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া ২৩ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

পোখরেল বলেছেন, বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগে ২০টি বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। শত শত একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের ৭৭টি জেলার মধ্যে অন্তত ২০টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমরা এখনও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শেষ করতে পারিনি।

 

পুলিশের বুধবারের বিবৃতি উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশজুড়ে বন্যা হলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। অনেকেই আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

পুলিশের মুখপাত্র বসন্ত কুনওয়ার জানান, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সেতি নামের গ্রামটিতে দুই দিন ধরে পানিবন্দি ৬০ জন বাসিন্দা।

 

বাড়িঘরের পাশাপাশি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক সেতু ও সড়ক; ভেঙেও গেছে বেশ কয়েকটি। এতে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ শস্য।

 

আগামী কয়েক দিনে দেশটিতে বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *