অনেক ধকল গেছে, শরীরটা ভালো যাচ্ছে না: পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক- মাদ ক নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তার, আদালতে আসা-যাওয়া, জামিন লাভ সবই যেন পরীমণির কাছে একটা দুঃস্বপ্ন। সেই অধ্যায় পেরিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ছেন তিনি। মন দিচ্ছেন কাজে। এ মাসেই শুরু করছেন ‘গুনিন’ ছবির শুটিং। এরপর ‘প্রীতিলতা’, এরপর ‘মা’, এরপর আরও অনেক ছবি।

 

এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত এই নায়িকা। সেখানে পরীমণি বলেছেন, ভয় পেলে লড়াই করা যায় না। পরিস্থিতিই মানুষকে যোদ্ধা করে। আর আমার জীবনে ভয় শব্দটাই মিসিং।

 

লড়াইয়ে কখনো একা মনে হয়েছে?
মনে হওয়ার কিছু নেই তো। সবাই তো একা! তবে আমি যেখানেই থাকি, মনে হয়েছে মানুষের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে আছে। মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তবে ফিজিক্যালি একাই সামলেছি সব।

 

আপনার মানসিক অবস্থা কেমন?
শরীরটা ঠিক ভালো যাচ্ছে না। অনেক ধকল গেল তো। সুস্থ হতে আরও সময় লাগবে। নতুন নতুন কাজ করতে হবে। মানসিকভাবে তাতেই আমার প্রশান্তি।

 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী আপনাকে বরাবরই সমর্থন করেছেন। আপনাকে নিয়ে কলাম ও কবিতা লিখেছেন…
‘আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’ নামটাই আমার জন্য এক মায়া। জীবনে যাঁকে কখনো দেখিনি, এমন কেউ এভাবে কাউকে আগলে রাখতে পারেন, এই মানুষটা জীবনে না এলে কী করে বুঝতাম! আমি একটিবার তাঁকে দেখব বলে অপেক্ষায় আছি। সৃষ্টিকর্তা যেন জীবনে একবার হলেও তাঁর সঙ্গে দেখা করান।

 

মামুনুর রশীদ, আজাদ আবুল কালাম, ঝুনা চৌধুরীসহ নাট্যাঙ্গনের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিই আপনার হয়ে কথা বলেছেন।
চিরকৃতজ্ঞ আমি। জায়গাটা যে অভিভাবকহীন নয়, এটা তারই বড় প্রমাণ। তাঁদের উদ্দেশে একটা কথাই বলব, আপনারা এভাবেই আমাকে আগলে রাখুন। আমি আপনাদের সম্মান রাখব, প্রতিজ্ঞা করলাম।

 

সিনেমার সবচেয়ে বড় ক্যানভাস শাকিব খান আপনার সমর্থনে কথা বলেছেন…
শিল্পী যে তিনি। পাশে থাকবেন না তা কী করে হয়। ওনার প্রতি অনেক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা।

 

‘স্বপ্নজাল’ করার পর হাতে থাকা অনেক ছবি ছেড়ে দিয়েছেন। এক বসায় একের পর এক চেক সই করেছেন। অ্যাডভান্সের টাকা ফেরত দিয়েছেন। এমন সাহসী সিদ্ধান্তে আপনার ম্যানেজারও রাগ করে চলে গেছেন। কিন্তু আপনি চেয়েছেন ভালো ছবি করতে… সেই মন জুড়ানো গল্পের অপেক্ষা কি আছে এখনো? পাচ্ছেন?
অপেক্ষা এখনো আছে। থাকবে। তেমন ভালো ছবি পাচ্ছি, কিন্তু কম। তবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ভালোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে বলেই মনে হয়। এখন অনেক মেধাবী ছবি নির্মাণের সাহস দেখাচ্ছেন। আমি তাঁদের নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।

 

ভালো ছবি পাওয়ার জন্য আপনার নিজের থেকে কী চেষ্টা করেন?
নিজেকে শতভাগ প্রমাণের চেষ্টা আমার বরাবরই থাকবে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে যখন যে সুযোগটা পাই, জান-প্রাণ দিয়ে সেটা যথাযথ করার চেষ্টা করি।

 

‘গুনিন’-এর প্রস্তুতি কেমন হলো? নিশ্চয়ই ট্রমা থেকে বের হওয়ার জন্য এই ছবি ভালো টনিক হবে?
সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করব, এটাই আমার জীবনে বড় পাওয়া। আমি আকাশছোঁয়া খুশি। মন দিয়ে কাজ করতে চাই। রেবেকাকে দেখাতে চাই।

 

‘গুনিন’ শুটিংয়ের আগে সহশিল্পী রাজের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেমন দেখছেন তাঁকে?
ও একদম পাগলা ধরনের একজন। কাছ থেকে মিশে ওর শিল্পসত্তার প্রেমে পড়েছি।

 

‘প্রীতিলতা’ ছবির শুটিংয়ের ডেট দেওয়া হয়েছে?
হ্যাঁ, সব ছবির ডেটই প্রাথমিকভাবে ঠিক করে ফেলেছি। এখন প্রকৃতি সঙ্গে থাকলেই হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *