নজর২৪ ডেস্ক- কুমিল্লায় বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় পূজামণ্ডপে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও।
এ ঘটনায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার বিষয়ে একটি খবর আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেছেন, ঘটনার পর আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখন শান্তিপূর্ণ।
এদিকে এ ঘটনায় শহরে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। আর পুলিশ বলছে তারা সন্দেহভাজন অন্তত দশ জনকে আটক করেছে।
ওদিকে পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন পাওয়ার ঘটনার পর কুমিল্লার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার পূজা উদযাপন কমিটির সম্পাদক নির্মল পাল।
তিনি বলেন, শহরের নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপের প্রতিমায় কোরআন রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ গিয়ে তা সরিয়ে নেয়। কিন্তু এর পর পরই একদল ব্যক্তি বেশ কিছু পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা চালায়।
কি ঘটেছিলো পূজামণ্ডপে?
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, খুব ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর আসে যে নানুয়ারদীঘির পূজামণ্ডপের ভেতরে প্রতিমার পায়ের কাছে একটি কোরআন রাখা আছে। খবর পেয়েই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ সেখান থেকে কোরআন নিয়ে আসেন। কিন্তু দশটা নাগাদ একটি ছবি ব্যাপকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে থাকে যেখানে দেখা যায় প্রতিমার হাঁটুর কাছে কোরআন। অনেকে এটি দিয়ে নানা ধরণের লাইভ বক্তব্য দিয়ে কোরআন অবমাননার অভিযোগ করতে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেছেনম বেলা এগারটার দিকে হঠাৎ কোরআন অবমাননা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। তিনি বলেন, সকালে নানুয়ারদীঘির মণ্ডপে কোরআন নজরে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানানো হয় এবং পুলিশ তখনি এসে কোরআনটি সরিয়ে নেয়।
“কিন্তু খবরটি খুব দ্রুত ছড়ানো হয় এবং কয়েকটি মাদ্রাসার লোকজন ছাড়াও স্থানীয় অনেকে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে মণ্ডপ গুলোতে হামলা করা শুরু হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়”।
তিনি বলেন, কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেলেও সেগুলো কোথায় হয়েছে তা বোঝা যায়নি।
পূজা উদযাপন পরিষদ যা বলছে
পূজা উদযাপন পরিষদের কুমিল্লা জেলা ইউনিটের সম্পাদক নির্মল পাল বলছেন খুব ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন, পূজা বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে কোরআন রেখে এ ঘটনা ঘটিয়ে তারাই এখন শহরজুড়ে পূজাবিরোধী বিক্ষোভ করছে। কয়েকটি মণ্ডপে হামলার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু পুলিশের বাধায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও গেইট বা সামনের স্থাপনা ভাংচুর করেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কুমিল্লায় অনেকগুলো পূজামণ্ডপে উৎসব চলছিলো। কিন্তু আজ যেই মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে প্রতিমা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপকেরা জানিয়েছেন পূজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিসর্জন দিয়ে দিয়েছেন।
ওদিকে বিকেলে আরও একটি মন্দির এলাকায় পূজাবিরোধী মিছিলকারীদের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের একদল ব্যক্তির সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া গেছে। যদিও জেলা প্রশাসক বলেছেন এমন কোন ঘটনা ঘটেনি।
মন্দিরে কোরআন রেখেছে কারা
পুলিশ বা জেলা প্রশাসন বলছে কারা ঘটিয়েছে সেটি জানতে তারা তদন্ত শুরু করেছে ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলছেন , “কোরআন পূজামণ্ডপে কারা রেখেছে সেটি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি করেছি এবং পুলিশও আলাদা তদন্ত করছে। এজেন্সিগুলো থেকেও তথ্য নিচ্ছি। আশা করি যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করতে পারবো”।
তিনি বলেন, “তদন্ত না করে বলা যাবে না। এটার বিভিন্ন গ্রুপ থাকতে পারে। এখন সন্দেহের ওপর বলা ঠিক হবেনা। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটেরে নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে জানাবে। পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। এখন চাচ্ছি শহর শান্তিপূর্ণ থাকুক। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আমরা বুঝতে পারবো। আমরা আশাবাদী যে আমরা চিহ্নিত করতে পারবো”।
