দেশে বোন আটক: অবশেষে মুখ খুললেন প্রবাসী সাংবাদিক কনক সারোয়ার

নজর২৪ ডেস্ক- সরকারের সমালোচনা করেন বলেই তার বোন নুসরাত শাহরিন রাকাকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক কনক সারওয়ার।

 

গত সোমবার মধ্যরাতে রাকাকে র‍্যাব আটক করার পর এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। এদিকে, র‍্যাব দাবি করেছে, রাকার কাছে মাদক পাওয়া গেছে।

 

পরদিন মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব দাবি করেছিল, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। এসময় তার ভাইকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারকারীদের অন্যতম দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। আটকের পর রাষ্ট্রবিরোধী কনটেন্টসহ একটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট ও মাদক আ ই স রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এই দুটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত রাকার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, কনক সারওয়ার বিদেশে বসে অসত্য তথ্য প্রচার করছে প্রধানমন্ত্রী, সামরিক বাহিনী ও সরকার নিয়ে। তিনি বলেন, বিদেশে বসে দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে কেউ অপপ্রচার করলে এবং দেশে কেউ এসবে সহায়তা করলে আইনি ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

 

অন্যদিকে, কনক সারওয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তিনি সরকারের সমালোচনা করলেও কখনোই রাষ্ট্রবিরোধী কিছু করেননি। তিনি আরও জানান যে, তার কারণেই তার বোনকে হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাইয়ের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভের কারণে বোনকে এভাবে হেনস্থার মাধ্যমেই বরং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

 

কনক সারওয়ার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘গত ১০/১২ দিন আগে তার নামে একটি ফেক ফেসবুক আইডি খোলা হয়। সেই আইডিতে কিছু পোস্টের পর আমার বোন জিডিও করেছিল থানায় যে তার নামে আইডি খুলে সেখানে উদ্দেশ্যমূলক বিভিন্ন বিষয় দেয়া হচ্ছে। সে আসলে বিচারপ্রার্থী ছিল। এখন বিচার প্রার্থীকেই আসামি করা হয়েছে কারণ সে আমার ছোট বোন। এটিই তার অপরাধ। আমি মনে করি ফেসবুক আইডি থেকে শুরু করে যা কিছু করা হয়েছে সবগুলোই পরিকল্পনা বা নীলনকশার অংশ।’

 

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হয়ে ২০১৫ সালে নয় মাস জেল খাটার পর ২০১৬ সালে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে বসে কনক সারওয়ার নানা সময়ে সরকারের সমালোচনা করে আলোচনায় এসেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *