‘মুহিবুল্লাহর বুকে গুলি চালায় মাস্টার আবদুর রহিম’, হত্যার নির্মম বর্ণনা দিলেন ছোট ভাই

নজর২৪ ডেস্ক- কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা কোনো সুযোগই দেয়নি মুহিবুল্লাহকে। পাঁচ রাউন্ড গুলি করলে তিন রাউন্ড গুলি সরাসরি তার বুকে লাগে। এতে তার মৃত্যু হয়।

 

মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘উখিয়া কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ক্যাম্পে এশার নামাজ শেষ করে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর অফিসে অবস্থান করছিলেন। সেখানে আগেই উৎপেতে ছিলেন‌ দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলেন ওরা। এরপর তার দিকে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তিনটি গুলি লাগে তার বুকে, আর একটি ডান হাত ছেদ হয়ে বেরিয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, ওই অফিসে কর্মরত অন্যান্যদের মারধর করে ছেড়ে দিলেও ভাইয়ের বুকে গুলি চালায় মাস্টার আবদুর রহিম নামে এক সন্ত্রাসী।

 

হাবিব বলেন, ‘হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আমি দ্রুত ছুটে গিয়ে দেখি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমার ভাই পড়ে আছে। আর সেখান থেকে অস্ত্র হাতে মাস্টার আবদু রহিম ও মুর্শেদ, লালুসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে বেরিয়ে যেতে দেখি। এ সময় তারা আমার দিকেও এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সেখান থেকে পালিয়ে রক্ষা পাই।’

 

যারা মুহিবুল্লাহকে হত্যা করেছে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরএসও-এর সদস্য বলে দাবি করেন হাবিব।

 

মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আমার ভাই এগিয়ে আসতেন। তাদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছিলেন। শুধু এখানে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও আমার ভাইয়ের পরিচিতি ছিলো। হয়তো সেই যাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে এ হামলা এবং তাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘাতকদের শাস্তির দাবি জানাই।’

 

বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট ১ নম্বর ব্লকের অফিসে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবউল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

 

এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পজুড়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।

 

বর্তমানে ক্যাম্প এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

 

নিহত ৫০ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহর বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডা ছড়া গ্রামে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

 

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মংডু টাউন শিপের সিকদার পাড়া গ্রাম থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *