টাঙ্গাইলে ৫ সদস্যের পরিবারে ৪ জনই প্রতিবন্ধী, ভাতা পায় না কেউ

তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- পাঁচ সদস্যের পরিবার। এদের মধ্যে চারজনই প্রতিবন্ধী, বাকি একজন কর্তাব্যক্তি। যিনি নিজেও বয়সের ভারে এখন ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু কারো কপালেই জোটেনি সরকারি কোনো ভাতা।

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কস্তুরি পাড়া এলাকায় এসব প্রতিবন্ধী সদস্যদের নিয়ে একবেলা আধপেটা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ৭৬ বছর বয়সের বৃদ্ধ দীনেশচন্দ্র সূত্রধর।

 

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীনেশচন্দ্র সূত্রধর ১৯৭৪ সালে বিয়ে করেন টাঙ্গাইলের করটিয়া এলাকার সুবলচন্দ্র সূত্রধরের মেয়ে পারুল সূত্রধরকে। বিয়ের পর সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরপর একে একে দুটি পুত্র সন্তানের বাবা হন দীনেশ। একদিন হঠাৎ করেই তার স্ত্রী পারুল সূত্রধর টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। সেই থেকেই তার মাথায় দেখা দিল সমস্যা, যেটা আজ অবধি ঠিক হয়নি। মাঝে মাঝে স্বাভাবিক থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই থাকেন অস্বাভাবিক।

 

এদিকে দীনেশ সূত্রধরের বড় ছেলে দীজেন মাদকাসক্ত হয়ে একপর্যায়ে মানুসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো, কোন একদিন সে শিকল ছিড়ে পালিয়ে যায়। আজও ঘরে ফেরেনি দীজেন।

 

পরবর্তীতে দীনেশ সূত্রধরের ছোট ছেলে দীপন সূত্রধর তার বাবার পেশায় বেশ সাহায্য করছিল। মায়ের মতো তারও একদিন টাইফয়েড জ্বরে চেপে ধরল। ধীরে ধীরে দীপন হারিয়ে ফেলল মানুসিক ভারসাম্য। তাকেও এখন বেঁধে রাখতে হয় শিকল দিয়ে।

 

এছাড়া অসহায় দীনেশ সূত্রধরের সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা দ্বীপা সূত্রধর যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন তার মাঝেও দেখা দেয় অস্বাভাবিক আচরণ। আজ ৫ বছর চলছে দ্বীপাও লোহার শিকলে বন্ধি।

 

 

বর্তমানে অসহায় দীনেশ চন্দ্রের সাহায্য করার মত এখন কেউ নেই। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করাতে সবকিছুই বিক্রি করে দিতে হয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত টাকার অভাবে কাউকে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলতে পারেননি তিনি। মাথা গোঁজার একমাত্র সম্বলটুকু হারিয়ে এখন পরিবারের সবাইকে নিয়ে কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া এলাকায় একটা ভাঙা বাড়ি ৮০০ টাকা ভাড়া নিয়ে থাকেন। যার ভাড়া বেশিরভাগ সময়ই দিতে পারেন না তিনি।

 

এখন তার সংসারে আয়-রোজগারের কেউ নেই। পুরো সংসারটাই চলে টেনে-টুনে। এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও তার কপালে আজও জুটেনি বয়স্ক ভাতা, এছাড়া পরিবারের কেউ পায়না প্রতিবন্ধি ভাতাও।

 

নজর২৪-এর প্রতিবেদকের কাছে জীবনযুদ্ধের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন দীনেশ। তার আর্তনাদ, আর কত বয়স হলে পাবো বয়স্ক ভাতা? কয়জন প্রতিবন্ধি লাগবে ভাতা নিতে। স্ত্রী সন্তানও পায়নি প্রতিবন্ধী ভাতা।

 

স্থানীয়রা জানান, দীনেশের মত অসহায় লোক এই এলাকায় নেই। এ বয়সে তিনি এখন সত্যি বড় অসহায়। দীনেশ ভিক্ষাবৃত্তি না করলেও সংসার চলছে মানুষের দয়া এবং করুণায়। সে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগীতাসহ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের দাবি জানান।

 

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই পরিবারের তালিকা না দেওয়ায় তাদের ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তালিকা দিলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *