খুললো কওমি মাদ্রাসা, চলবে ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ আদলে

নজর২৪ ডেস্ক- প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোও খুলেছে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসাগুলোতেও ক্লাস শুরু হয়েছে।

 

তবে অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যাগত কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। তবে অন্তত এক বছর পর শিক্ষালয়ে ফিরে খুশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

 

রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো আবাসিক হওয়ার কারণে অনেকটাই ‘কোয়ারেন্টিন সেন্টারের’ মতো পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের বাইরে যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত থাকায় মাদ্রাসার ভেতরে আলাদা করে মাস্ক বা অন্য কোনও বিধিনিষেধ মানার প্রয়োজনীয়তা শিথিল হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বেফাকের সহ-সভাপতি ও সিলেটের গহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহউদ্দিন রাজু বলেন, ‘সারাদেশের সব মাদ্রাসা খুলেছে। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাস শুরু হওয়ায় সবাই উৎফুল্ল।’

 

মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ে অবস্থান করেন। শিক্ষকদের কেউ কেউ বাইরে থেকে এলেও এখন তারা মাদ্রাসায় অবস্থান করবেন। কেউ বাইরে থেকে এলেও যদি তারা অসুস্থ হন তাহলে আসবেন না।

 

জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ মাদ্রাসার হাদিসের শিক্ষক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, মাদ্রাসায় বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিষয়টা অনেকটা কোয়ারেন্টিন সেন্টারের মতো। কেউ বাইরে যাবে না, বাইরের কেউও ভেতরে আসবে না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে যেতে বলা হয়েছে।’

 

বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহউদ্দিন রাজু বলেন, ‘প্রায় এক বছর করোনার কারণে কওমি মাদ্রাসার ক্লাস বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে, যে কারণে অনেক মাদ্রাসায় চাপ কমেছে। আগে তো সিট পাওয়া যেতো না, এখন সিট ফাঁকা আছে। যদিও ঢাকার মাদ্রাসাগুলোতে একটু গাদাগাদি আছে।’

 

কোনও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে দ্রুত অভিভাবককে জানিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে বলেও জানান মাওলানা মুসলেহউদ্দীন রাজু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *