নজর২৪ ডেস্ক- কথায় আছে- প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে, ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’। বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটেছে। সামান্য আয় করতে গিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লোকসান করেছে এই কোম্পানি।
২০১৯-২০ হিসাব বছরে (২০২০-এর জুনে সমাপ্ত) ইভ্যালি আয় করেছে মাত্র ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পণ্যের দামে ব্যাপক ছাড় দিয়ে ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি এর জন্য লোকসান করেছে ১০০ কোটি টাকা।
ইভ্যালি তাদের কোম্পানির ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) জমা দিয়েছে, সেখানে অস্বাভাবিক এই লোকসানের তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির সম্পদ, লাভ, লোকসান, দায়দেনা তুলে ধরা হয়েছে। খবর- সমকালের
৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান ১০২ কোটি টাকা। এসআর ইসলাম অ্যান্ড কোং এই নিরীক্ষা করেছে বলে জানিয়েছে ইভ্যালি। ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন এখনও ইভ্যালি জমা দেয়নি। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আরজেএসসিতে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন নেয় ইভ্যালি।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাদের আয় হয়েছে ৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এই টাকা আয় করতে তাদের খরচ হয়েছে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আর ওই বছর কোম্পানির পরিচালন ব্যয় (বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, গাড়ি, জ্বালানি ও অন্যান্য) ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা। ফলে কোম্পানির পরিচালন লোকসান দাঁড়ায় ১০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কোম্পানিকে ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা কর দিতে হয়েছে। ফলে অর্থবছর শেষে কোম্পানির নিট লোকসান দাঁড়ায় ১০০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ ছিল ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকার। আর ইনট্যানজিবল অ্যাসেট ছিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা। ইনট্যানজিবল অ্যাসেট হচ্ছে কোম্পানির এমন সম্পদ, যেগুলো স্পর্শ করা যায় না। যেমন ব্র্যান্ডভ্যালু, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি। ইভ্যালির মোট চলতি দায় ছিল ১৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রেতাদের কাছে দেনা ছিল ১২৮ কোটি টাকা।
এদিকে ইভ্যালি যে কোম্পানির নামে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেছে, সেই এসআর ইসলাম অ্যান্ড কোং দাবি করেছে, তারা কখনও ইভ্যালির নিরীক্ষা করেনি। এ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার সাইফুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কখনও ইভ্যালির নিরীক্ষা করিনি। ফলে আমাদের নামে কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন ইভ্যালি জমা দিয়ে থাকলে তা মিথ্যা-বানোয়াট।’
ব্যাপক লোকসান ও সমালোচনার মধ্যে পড়ার পরও বিস্ময়করভাবে গত ১৫ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে ইভ্যালি দাবি করেছে, তাদের ইনট্যানজিবল অ্যাসেট গত ১৫ জুলাইয়ে বেড়ে হয়েছে ৪৩৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে এ সময়ে দেনাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের দাঁড়িয়েছে ৩১১ কোটি টাকা। সূত্র- সমকাল।।
আরও পড়ুন-
ইভ্যালির কাছে ২০৬ কোটি টাকা পাবে মার্চেন্টরা
আমাকে জেলে দিলে কোন সমাধান নয়: ইভ্যালির এমডি
