ইভ্যালির কাছে ২০৬ কোটি টাকা পাবে মার্চেন্টরা

নজর২৪, ঢাকা- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কাছে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০৬ কোটি টাকা। ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

এতে বলা হয়, জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালির কাছে মার্চেন্টদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

 

তবে ওই পরিমাণ টাকা কতসংখ্যক মার্চেন্ট পায় তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, চিঠিতে রাসেল আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে গ্রাহকের সমস্ত পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইভ্যালি জানিয়েছে, তারা মার্চেন্টদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করছে। ইভ্যালিতে বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে মার্চেন্টরা ১৫-২০ শতাংশ মুনাফা করেন।

 

তবে এই জবাবে, মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধের সময়সীমার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেনি ইভ্যালি।

 

বিতর্কিত এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি এখন বলছে, তারা গ্রাহকদের পাওনা ৩১০ কোটি ৯২ লাখ টাকার বকেয়া ‘ব্যবসায়িক স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ লাভের মাধ্যমে’ পরিশোধ করবে।

 

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, “আমরা ইভ্যালির জবাব পেয়েছি। বিষয়টি দেখার জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। কোম্পানিটির দায়, বিজনেস পলিসি বিশ্লেষণ করতে কমিটি অবিলম্বে বসবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।”

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, “ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। আমরা একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি দেখা করতে পারবেন।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে সমস্যায় ফেলতে চাই না কারণ এতে গ্রাহকরাও সমস্যায় পড়বে। আমরা গ্রাহক এবং মার্চেন্টদের স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেব। তারাই আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। প্রথমে তাদের রক্ষা করা হবে, তারপর ইভ্যালি।”

 

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই থেকে তিন মাসের আগাম সময় নিয়ে প্রায় অর্ধেক মূল্যে পণ্য সরবরাহের লোভনীয় বিভিন্ন ‘অফার’ দেওয়া শুরু করে ইভ্যালি। তাতে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি, প্রাইভেটকারসহ নানা পণ্যের ক্রেতাদের সমারোহ ঘটেছিল ইভ্যালিতে।

 

স্বল্প মূল্যের এসব পণ্যের জন্য টাকা নেওয়া হতো অগ্রিম। কিন্তু কিছু ক্রেতাকে পণ্য দিয়ে বাকিদেরকে অপেক্ষায় রাখার কৌশল নিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

 

এদিকে গত ২৬ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির পক্ষ থেকে জমা দেওয়া দায়-দেনার হিসাবে দেখা যায়, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহক ইভ্যালির কাছে পণ্য কেনার জন্য বুকিং দিয়েছেন। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত বুকিং বাবদ গ্রাহকরা ইভ্যালির কাছে ৩১০ কোটি টাকা পাবেন।

 

সূত্র বলছে, দুই লাখ ১৪ হাজার গ্রাহকের মধ্যে অধিকাংশই তাদের মূল টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

তবে ইভ্যালির কল সেন্টার থেকে গ্রাহকদের বলা হচ্ছিল, অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির সংকট আরও বাড়ছে। সর্বশেষ ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যানের ব্যাংক হিসাব তলবের পর যমুনা গ্রুপও প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

 

যমুনা গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে ইভ্যালির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা না দিলেও আপাতত প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করবে না। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালির অধিকাংশ কর্মী চাকরি খুঁজতে শুরু করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *