নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমনি ইস্যুতে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রেখেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদ। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, পরীমনির ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সরকার আড়াল করতে চায়।
এমপি হারুন বলেন, বিষয়গুলোতে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। বিষয়গুলোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা দরকার। জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আজ শুক্রবার এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, অপরাধী যেই হোক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। যথাযথ বিচারের আওতায় আনতে হবে তাদের। সেটা যদি না করা যায় তাহলে মাদক বলেন, গণিকাবৃত্তি বলেন, আর জুয়া বলেন— কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন না।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। করোনার মহামারির কারণে মাত্র চার কার্য দিবসের এই অধিবেশন শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও অধিবেশন বসাতে হয়েছে।
সংসদ অধিবেশনে হারুনুর রশীদ বলেন, দেশে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় হাউস পার্টি, ডিজে পার্টির নামে মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে, তারা আশা করেন এর বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, আমার জানা নাই, ৫০ বছরের ইতিহাসে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ ধরনের কোনো ক্লাবে পুলিশের প্রধান সভাপতির দায়িত্ব বা এই রকম ক্লাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে হারুনুর রশীদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেপরোয়া যেসব কর্মকাণ্ড, মাদক কারবারের সঙ্গে তারাও জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে গ্রেপ্তার ও জামিনের ঘটনাও বেশ নাড়া দিয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পরীমনি গণমাধ্যমে বলেছেন, কত নাটক করে তাকে ধরে নেয়া হয়েছে। তাকে বলা হয়েছিল, শুধু অফিসে নেয়া হবে আর কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হারুনুর রশীদ বলেন, পরীমনির ঘটনা তদন্তের তদারক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব। র্যাব নিজেরা এই ঘটনা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছিল। কারণ, এর পেছনে অনেক বড় শক্তি জড়িত। এদের যারা ব্যবহার করছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।
পরীমনিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন বিএনপির এই এমপি। তিনি বলেন, পরীমনির ঘটনায় হাইকোর্ট পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালত বলেছেন, পরীমনি একজন নারী, অসুস্থ, চিত্রজগতের কর্মীর জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এটা কোনো কথা হতে পারে? তাকে পরপর কেন তিন দিন রিমান্ডে নেয়া হলো, এটি নিয়ে হাইকোর্ট জজকোর্টের নথি তলব করেছেন। এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে ‘পারসেপশনটা’ ভিন্ন হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, র্যাব যে পরীমনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছিল, গ্রেপ্তার করেছিল, তার বাড়িতে যে মিনি বার, এগুলো কি অসত্য?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অবশ্য এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেননি।
