নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘কথায় কথায় মিথ্যা বলেন’ বলে অভিযোগ করেছেন তারই ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের কথায় কথায় কসম কাটে আর মিথ্যা কথা বলে।’
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ারকে নিয়েও অভিযোগ করেছেন কাদের মির্জা।
নিজের অনুসারী নাজিম উদ্দীন বাদলকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন কাদের মির্জা।
এ সময় নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ‘কাকে ভয় দেখাস? ১৯৮২ সাল থেকে জেল খাটছি। তোর কত বড় সাহস। তোর গুন্ডা ওসিকে লাগিয়ে আজকে কোম্পানীগঞ্জে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছ। কী করবি, গ্রেপ্তার করবি? তোর কাছে অস্ত্র আছে, আমাদের কাছে লাঠি আছে। প্রতিহত করা হবে। অস্ত্র ছেড়ে আয় দেখি কি করতে পারিস? কার হুকুমে তুই গতকাল আমার এবং আমার দুই কর্মীর ছবি এখানে ওসির কাছে পাঠিয়েছস? আমাদের গ্রেপ্তার করার জন্য, এ সাহস তোকে কে দিয়েছে? ওবায়দুল কাদের? সে তো মিথ্যুক! কথায় কথায় কসম খায় আর মিথ্যা কথা বলে।’
ওবায়দুল কাদেরকে হুমকি দিয়ে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে সকল তথ্য-প্রমাণ লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। জায়গা মতো পৌঁছে দিবো।’
কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি এমন স্ত্রী নিয়ে সংসার করেন যে আপনার মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্নীতি করে শত-কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তিনি (মন্ত্রী) যখন সিঙ্গাপুরে অসুস্থ তার চিকিৎসা খরচ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অথচ তার (ওবায়দুল কাদের) স্ত্রী সিঙ্গাপুরের হোটেলে বসে মন্ত্রীকে দেখতে যাওয়া সব ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও এমপিদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে শতকোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে।’
কাদের মির্জা তার অনুসারী নাজিম উদ্দিন বাদলকে গ্রেপ্তারের পর ক্ষিপ্ত হয়ে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) উদ্দেশ করে বলেন, “এসপি তোর ‘গদি’ ভেঙে দেওয়া হবে। নোয়াখালী থেকে সম্মান নিয়ে যেন না যেতে পারিস সে ব্যবস্থা করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি করে আক্ষেপের সূরে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কারও আত্মীয়ও হতে পারলাম না। আমাদের অভিভাবকও নাই। আমাদের এলাকায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মতো নেতার জন্ম হয় নাই। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। তাই এখানকার সমস্যা আট মাসেও সমাধান হয়নি।’
এদিকে শুক্রবার বিকালে কাদের মির্জা তার অনুসারী নাজিম উদ্দিন বাদলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বসুরহাট পৌরহলে প্রতিবাদ সভা শেষে বসুরহাট বাজারে তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করেন। এ সময় কিছু সময়ের জন্য বসুরহাট বাজারে স্থবিরতা নেমে আসে।
