নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির মুক্তির খবরে তাকে সামনে থেকে একবার দেখার আশায় অনেক দূর থেকে ছুটে এসেছিলেন ভক্ত-অনুরাগীরা। তাদের কেউ কেউ নায়িকাকে দেখতে পেয়ে আপ্লুত হয়েছেন। অনেকে আবার না দেখে হয়েছেন হতাশ।
গাজীপুরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সকাল ৮টায় কারাফটকের সামনে আসেন। পরীমনিকে সামনে থেকে দেখতে পেরে ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সামনে থেকে পরীমনিকে দেখতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে।’ সিনেমার চেয়ে বাস্তবে পরীমনি অনেক বেশি সুন্দর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে পরীমনিকে দেখতে এসেছিলেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয়। নায়িকাকে দেখতে না পারায় আক্ষেপ ঝরে তার কণ্ঠ থেকে। তিনি বলেন, ‘ভোরে রওনা হয়েছি। সকাল ১০টায় কারাগারে এসে শুনি পরীমনি বের হয়ে চলে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি অনেকেই তার সঙ্গে সেলফি তুলেছে। সামনাসামনি দেখেছে। এত দূর থেকে এসেও তাকে দেখতে না পারায় কষ্ট লাগছে।’
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে পরীমনিকে দেখতে এসেছিলেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘পরীমনি অপূর্ব সুন্দরী। তাকে দেখার অনেক দিনের বাসনা ছিল। আজ তা পূর্ণ হলো।’
এর আগে বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই গাড়ির মধ্যে থেকে উৎসুক জনতার সঙ্গে সেলফি তোলেন পরীমনি। বের হওয়ার সময় তিনি বেশ উৎফুল্ল ছিলেন। এসময় তাকে সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে বের হতে দেখা যায়। তখন সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি সাদা পোশাকে ছিলেন। তার মাথায় ছিল একটি সাদা পাগড়িও। তখন তার মুখে ছিল হাসি।
পরীমনি যখন হাত নেড়ে তার ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন, তখন তার হাতে লেখা ছিল, ‘Dont ও লাভ চিহ্ন, এরপর me Bitch’। তবে এ লেখার উদ্দেশ্য কি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এরপর পরীমনিকে বহনকারী গাড়িটি বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। প্রায় ২৭ দিন কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় পরীমণির খালু জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন নিকটাত্মীয় ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী কারা ফটকে যান। এ সময় তার আইনজীবী বলেন, আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীর শুনানির পর তাকে জামিন দেয়। তবে কাশিমপুর কারাগারে জামিনের কাগজপত্র না আসায় গতকাল তাকে মুক্তি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরীমণির জামিন আদেশ দেন। তিন কারণ বিবেচনায় পরীমণিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। যেহেতু পরীমণি একজন চিত্রনায়িকা এবং একজন নারী। তাছাড়া সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রীতিলতা নামক একটি চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের শিডিউল চলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন আদালত।
