বাবার মৃত্যুর ৬ মাস পরে চলে গেলেন ক্যাপ্টেন নওশাদও!

নজর২৪, ঢাকা- বাবার পথ অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উড়ে বেরিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। বাবা চলে গেছেন চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে, এবার পারি জমালেন তিনিও।

 

আজ সোমবার (৩০ জুলাই) ভারতের নাগপুরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

বাবা আব্দুল কাইয়ুমও একসময় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তিনি ডিসি-১০ উড়োজাহাজের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় ‘কোরিয়ান এয়ার’ এবং ‘সৌদি এয়ালাইন্সেও’ দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র এই পাইলট। চলতি বছরেই আব্দুল কাইয়ুম মারা যান।

 

পেশাগত জীবনে বাবা-ছেলের যেমন মিল রয়েছে, তেমনি চলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আরেকটা মিল রেখে গেলেন তারা। দুজনেরই মৃত্যু হলো ভারতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুল কাইয়ুম মারা যান ভারতের কলকাতায়।

 

উল্লেখ্য, ওমানের মাস্কাট থেকে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২ ফ্লাইট। মাঝ আকাশে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন বিমানের পাইলট ক্যাপটেন নওশাদ আতাউল কাইউম। এ সময় তিনি কো-পাইলটের কাছে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

 

এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি এড়িয়ে ফ্লাইটটি ভারতের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ১২৪ জন। পরে জানা যায়, নওশাদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।

 

ওই দিন রাতেই বিকল্প পাইলট ও ক্রু পাঠিয়ে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। আর নওশাদকে ভর্তি করানো হয় নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালে।

 

এদিন নওশাদ ও তার ফার্স্ট অফিসারের বুদ্ধিমত্তায় নতুন জীবন পেয়ে যাত্রীরা নিরাপদে দেশে ফিরলেও শেষপর্যন্ত নিজে ফিরতে পারলেন না। ভারতের নাগপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউম সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 

টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ‘কোমায়’ থাকার পর সোমবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ১০টা ৪৫ মিনিটে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *