সমঝোতা হয়নি, নিজ অবস্থানে অনড় সেই জাপানি মা ও বাংলাদেশি বাবা

নজর২৪ ডেস্ক- দুই সন্তানকে নিয়ে আইনি লড়াই লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিতা শরিফ ইমরান ও জাপানি মা নাকানো এরিকো।

 

আগামী ৩১ আগস্ট শিশু দুটিকে আদালতে হাজির করার আগে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। প্রথমবারের মতো গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের একটি হোটেলে সমঝোতা বৈঠক হয়। কিন্তু নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছেন তারা।

 

এরিকো চান, মেয়েদের নিয়ে তিনি জাপানে ফিরে যাবেন এবং সেখানেই তাদের বড় করে তুলবেন। ইমরান চান, মেয়েরা বড় হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তার কাছেই রাখবেন। প্রয়োজনে তাদের মা মাঝেমধ্যে এসে দেখা করে যাবেন। কেউ কারও দাবি মানেননি। যে কারণে প্রথম বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তবে আশাবাদী এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির।

 

তিনি বলেন, ‘যদিও প্রথম বৈঠকে সমঝোতা হয়নি, তবে আমি আশাবাদী পরবর্তী বৈঠকে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারব। এখনও তো সময় আছে।’

 

শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সামনে কথা হয় ইমরানের সঙ্গে। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এসেছেন। বাসা থেকে মেয়েদের খাবার হিসেবে এনেছেন গরুর কিমা, ভাত, ডাল, কমলা ও আপেল।

 

এর আগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের মা এরিকো সময় কাটিয়ে যান। তিনিও মেয়েদের জন্য খাবার এনেছিলেন।

 

বৈঠক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ইমরান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠকে বসা হয়। তিনি ও এরিকো এবং দু’পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে এরিকো ও তার মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে। নানা কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলেও তারা এখনও স্বামী-স্ত্রী।

 

তিনি এরিকোর কাছে প্রস্তাব করেন, যেহেতু দুই মেয়ে জন্মের পর থেকেই যে পরিবেশে থেকেছে এবং বড় হয়েছে তা থেকে এই ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার একেবারেই ভিন্ন। মেয়েদের সেখানে থাকতে খুব অস্বস্তি হচ্ছে। থাকা-খাওয়া-গোসল-ঘুম দিনযাপনে কষ্ট হচ্ছে তাদের। ৩১ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করার দিন। এখনও তো বেশ কয়েকদিন বাকি। মেয়েদের হোটেলে বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকার অনুমতির জন্য তারা যৌথভাবে আদালতে আবেদন করার প্রস্তাব দেন; যাতে এই ক’দিন মেয়েরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু তার প্রস্তাব এরিকো গ্রহণ করেননি।

 

ইমরান আরও বলেন, মেয়েরা জন্মের পর এই প্রথম বাংলাদেশে এসেছে।

 

ইমরান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি পেশায় প্রকৌশলী। ১৫ বছর আমেরিকায় থাকার পর জাপানে যান। সেখানে এরিকোর সঙ্গে প্রেম হয় তার। ২০০৮ সালে তারা বিয়ে করেন। জাপানের টোকিওতে বসবাস শুরু করেন তারা। তাদের ঘরে তিন কন্যাসন্তান।

 

নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বড় ও মেজ মেয়েকে নিয়ে ইমরান জাপান থেকে দেশে আসেন। এরপর মেয়েদের ফিরে পেতে ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন এরিকো। মেয়েদের ফিরে পেতে ১৯ আগস্ট তিনি হাইকোর্টে একটি রিট করেন। দুই শিশুকে আগামী ৩১ আগস্ট হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

এর আগেই ২২ আগস্ট রাতে দুই শিশুকে তাদের বাবার কাছ থেকে নিয়ে আসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। আদালতের নির্দেশে গত সোমবার থেকে শিশু দুটিকে তেজগাঁওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে দুই শিশুর সঙ্গে তাদের বাবা-মা পৃথক পাঁচ ঘণ্টা করে সময় কাটাতে পারবেন বলে আদেশ দেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *