নজর২৪ ডেস্ক- বিকেল সাড়ে ৫টা। প্রতিদিনের মতো ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেন দিনাজপুরের বিরামপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হাজির।
তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবারের (২৬ আগস্ট) দিনটি ছিল বিরামপুরবাসীর জন্য আলাদা। কারণ এই ট্রেনে এসেছেন এলাকার জামাই রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
জামাইকে একনজর দেখতে ও শুভেচ্ছা জানাতে বিরামপুর রেলস্টেশনে হাজির হাজারও মানুষ। মন্ত্রী রেলগাড়ি থেকে নামামাত্র মানুষ ‘দুলাভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগেই প্ল্যাটফর্মজুড়ে টাঙানো হয় ব্যানার ও ফেস্টুন। স্টেশনে বড় একটি ব্যানারে লেখা ‘দুলাভাইয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’।
শ্বশুরবাড়ির মাটিতে পা রাখতেই মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে ফুলে ফুলে শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন বিরামপুরবাসী। একে একে শুভেচ্ছা জানায় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুভেচ্ছা পর্ব শেষে মন্ত্রী বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশন মডেল প্রকল্পে কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকবে, তা উপস্থিত লোকদের জানান।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ওই ট্রেনে করেই মন্ত্রী পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা করেন।
গত ৫ জুন ঢাকার হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন তন্ময়ে শাম্মী আক্তারকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
শাম্মীর বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়। তবে থাকেন রাজধানীর উত্তরায়। চাকরি করতেন ঢাকায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
চাকরির পাশাপাশি আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করতে থাকেন শাম্মী। একপর্যায়ে হাইকোর্টে এক সিনিয়রের সঙ্গে কাজও করতে থাকেন।
মন্ত্রী নিজেও একজন আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টে তার নামডাকও আছে বেশ। আর তার কাছ থেকে অভিজ্ঞতার পরামর্শ নিতে গিয়ে দেখা হয় দুজনের।
মন্ত্রী তার জীবনসঙ্গিনীকে হারিয়েছেন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে। আর শাম্মীও বিচ্ছেদের পর থেকে একা।
পরস্পরকে ভালো লেগে যায়। আর একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেন হাতে হাত রাখার। এই বয়সে উদ্দাম প্রেম তো মানায় না। তাই বিয়েটাও হয়ে যায় কদিন যেতে না যেতেই।
