নজর২৪ ডেস্ক- জাতীয় নির্বাচনের প্রায় আড়াই বছর বাকি থাকতেই ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ভেতরে ভেতরে নানা তৎপরতা শুরু করেছে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা বিএনপিও। নিয়েছে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে এক দফা দাবিতে ‘নতুন রূপে’ আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনের প্রায় আড়াই বছর সময় বাকি থাকলেও এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা দলটি।
বিশেষ করে বিশ্বস্ত, ত্যাগী ও সাহসী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এনে দলকে তৃণমূল থেকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে হাইকমান্ড। একই সঙ্গে অভিন্ন দাবিতে বাম-ডানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
দলের একাধিক নীতিনির্ধারক সূত্র থেকে জানা যায়, জোট গঠনের আগে প্রথমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুগপৎ এবং পরে একমঞ্চ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দাবির সপক্ষে সমর্থন পেতে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে নানাভাবে তদবির-লবিং শুরু করেছেন তারা। জনগণ, সুশীল সমাজ ও বিদেশিদের আস্থায় নিতে ‘রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে’ সরকারপ্রধান কে হবেন- তার ইঙ্গিতসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেবে দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। এবারের আন্দোলনকে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই ঢাকার ‘রাজপথ দখলের’ প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করেই রাজপথে নামতে চায় বিএনপি। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনের দাবিতে কর্মসূচি দেবে তারা। সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দলটির হাইকমান্ড। জোটের শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজেরও মতামত নেওয়া হবে।
অবশ্য সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিএনপির কাঙ্ক্ষিত এক দফা দাবি আদায়ের পথে দুটি কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। প্রথমত, সুসংগঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করা; দ্বিতীয়ত, এই দাবি আদায় করতে না পারলে কোনোরূপ একতরফা নির্বাচনের প্রহসন অনুষ্ঠান অসম্ভব করে তোলার মতো শক্তি অর্জন করা।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত দুটি নির্বাচনে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনোমতেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর আগে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চারটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা অংশ নেব কি নেব না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর। সরকার দাবি পূরণ না করলে আমাদের বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। আন্দোলন সফল করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা আমরা করব।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করতে সব দল ও মতকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য বিএনপিকে পুনর্গঠন করে শক্তিশালী করা হচ্ছে।
জামায়াতকে জোটে রাখা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলার সময় এখনও হয়নি। সূত্র- সমকাল ।।
