জামিন না চাওয়ার কারণ জানালেন পরীমণির আইনজীবী

নজর২৪, ঢাকা- বনানী থানায় করা মাদক মামলায় তৃতীয় দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

 

শনিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত পরীমণিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ আদালতে পরীমণির আইনজীবীরা জামিন না চেয়ে তার সঙ্গে কথা বলার আবেদন করেন।

 

পরীমণির আইনজীবীরা জানান, শুনানিতে পরীমণির সঙ্গে তারা কথা বলার অনুমতি চান। তারা জামিন আবেদন করেননি। আদালত শুনানি শেষে সেই আবেদন নাকোচ করে দিয়েছেন। এরপরই জামিন আবেদন না করায় সমালোচনার মুখে পড়েন পরীমণির আইনজীবীরা। তবে তারা বলছেন, জামিন চাওয়া বা না-চাওয়া আইনগত প্রক্রিয়া। সুযোগ আছে, আগামীতে করা হবে।

 

দেখা করার আবেদনের ভিত্তিতে পরীমণির আইনজীবীরা বলেন, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ন্যয়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার আছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আইন দিয়েছে। এটি সংবেদনশীল মামলা। এ মামলায় আইনজীবীরা আসামির সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আমরা তার সঙ্গে এখন পর্যন্ত কথা বলতে পারছি না। আমরা আজকে জামিন আবেদন করিনি, আসামির সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। তিনি একজন চিত্রনায়িকা, তিনি অসুস্থ। যদি আমরা তার কথা না জানি, তাহলে তাকে কী সহায়তা দেবো?

 

এজলাস থেকে বের হয়ে পরীমণির আইনজীবী কামরুজ্জামান চৌধুরী ও নীলাঞ্জনা রিফাত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, আদালতে পরীমণি অসুস্থতার কথা জানান। জামিন আবেদন কেন করেনি প্রশ্নে তিনি বলেন, ‌‘আগামীতে করবো, সুযোগ আছে। আমরাতো তার সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। কথা বলতে পারলে আইনি দিক বিবেচনা করে আবেদন করবো। আমাদের দেখা করার দরখাস্ত নামঞ্জুর করা হয়েছে।’

 

নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, ‘জামিন না চাওয়াটা আইনগত বিষয়। আমরা কোন পথে এগোবো, এর জন্য উনার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। উনি বলেছেন আদালতে আমাকে বারবার এভাবে টানা হেঁচড়া করলে আমি পাগল হয়ে যাবো।

 

এর আগে ১৯ আগস্ট তৃতীয় দফায় পরীমনিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের নিতে আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা। এসময় শুনানি শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের জন্য সিআইডি পুলিশের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন মহাগর হাকিম আতিকুল ইসলাম।

 

রিমান্ড শেষে শনিবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে পরীমনিকে ঢাকার মুখ্যমহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাকে এসজলাসে তোলা হয়।

 

এরপর মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে শুনানি করে বিচারক আশেক ইমাম পরীমনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *