নজর২৪ ডেস্ক- পুরো নাম মুহাম্মদ জুনায়েদ। তবে জুনায়েদ বাবুনগরী নামেই তিনি পরিচিত। তিনি ১৯৫৩ সালের ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবুল হাসান ও মা ফাতেমা খাতুন। পারিবারিক জীবনে বাবুনগরী ৫ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর তিনি সংগঠনটির শীর্ষ পদে আসীন হন। এর আগে, তিনি হেফাজতের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন দীর্ঘ সময়।
দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব ও শায়খুল হাদিস, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাসিক মুঈনুল ইসলামের প্রধান সম্পাদক, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোতোয়াল্লি, মাসিক দাওয়াতুল হকের পৃষ্ঠপোষকসহ কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
পাঁচ বছর বয়সে তিনি আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি মক্তব, হেফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায়। ১৯৭৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি পাকিস্তান যান। ১৯৭৬ সালে করাচির জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ায় তাখাচ্ছুছাত ফিল উলুমুল হাদিস তথা উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর গবেষণার পর হাদিসের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করেন।
১৯৭৮ সালের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরে বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশের মাদ্রাসার মধ্যে সর্বপ্রথম বাবুনগর মাদ্রাসায় তিনি উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগ চালু করেন। ২০০৩ সালে তিনি দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক হন। ২০২০ সালের ১৭ জুন মাদ্রাসা কমিটি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়। তার স্থলে মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৪ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। এই আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে ১৭ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে মাদ্রাসার দায়িত্ব মজলিসে শুরাকে দিয়ে দেন। ১৮ সেপ্টেম্বর আহমদ শফী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বাবুনগরীসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। তিনি মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও শিক্ষা সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
২০১০ সালে তাকে মহাসচিব করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির আমির আহমদ শফীর মৃত্যুর পর ১৫ নভেম্বর সংগঠনের একটি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে তিনি হেফাজতের আমির নির্বাচিত হন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৭ মে বাবুনগরীকে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় তাকে ১৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মুক্তি পান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় জুনায়েদ বাবুনগরীকে চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আবাসিক মেডিক্যাল চিকিৎসক এমজাদ হোসাইন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছে ৬৭ বছর।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।
