জীবনের ৩৬ বছর বিএনপিকে ‘সাদকা’ দিলেন জামান

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজের জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করায় অভিমানে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।

 

বুধবার (১৮ আগস্ট) রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এসময় এক প্রেসব্রিফিংও করেন এডভোকেট জামান।

 

যে প্রেসব্রিফিংয়ে নিজের রাজনীতির অতিত তুলে ধরার পাশাপাশি একসময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিলেটের রাজপথের লড়াকু এই বিএনপি নেতা।

 

এসময় বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলামের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- ‘বিগত ৩৬টি বছর আপনার দলকে নিরলস সেবা দিয়ে গেছি। হযরত শাহজালাল (রহ.) এর পূণ্যভূমির মানুষ জানে- আমরা কতটা দুঃখের সাগর পাড়ি দিয়েছি। আজকে আমার সহযোদ্ধাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ আপনারা প্রদর্শন করলেন অবশ্যই প্রকৃতি এর প্রতিবিধান করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

‘আমার জীবনের ৩৬টি বছর আপনাদেরকে সাদকা হিসেবে দান করে দিলাম’ বলে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এ নেতা।

 

বিগত সাড়ে চার দশক সিলেট বিএনপি তথা এর সামনের অঙ্গ সংগঠনের সামনের সারির নেতা ছিলেন এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। সর্বশেষ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এই ছাত্রনেতা।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজের জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করায় অভিমানে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে দলটির স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

 

বিএনপি থেকে নিজের পদত্যাগপত্রে জামান উল্লেখ করেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালী সময় সাধ্যমত সময় ও অর্থ ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছি। আমি কখনোই হালুয়া রুটির বাগিদার হইনি। কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করিনি।’

 

দলের মহাসচিবকে উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি আরো লিখেন- ‘আপনার মত বিজ্ঞ মানুষের স্মরণশক্তি যদি মহান আল্লাহ সঠিক রাখেন তাহলে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আমার ও আমার সহযোদ্ধাদের ভূমিকা আপনার মনে থাকার কথা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হল, গতকাল (১৭ আগস্ট) সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষিত হল আমার, মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে। সর্বোপরি যেসব সহযোদ্ধা আন্দোলন করতে যেয়ে জীবন বাজি রেখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, এমনকি সমাজ, সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তাদেরকে চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা হলো।’

 

মহাসচিব বরাবরে লেখা ওই চিঠিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আজকে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে জানতে ইচ্ছে করে আপনার দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠিটা কি? যারা দেশ ও দলকে ভালবাসে, জীবন বাজি রাখে, দুর্দিনে যারা বিশ্বস্ত থাকে, বন্ধুকের-বেয়নেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় তাদের পাওয়া উচিত, নাকি যারা লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সবকিছু হাসিল করে তাদের পাওয়া উচিত?’

 

ওই চিঠিতে তিনি লিখেন- ‘যে দলটাকে ভালোবেসে তিল তিল করে বিনির্মাণ করেছিলাম আজকে সেই দলে আমরাই অনাহুত। আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তুলেন কিন্তু নিজের অন্তর-আত্মাকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন কি- আপনারা আপনাদের নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কিনা?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *