নজর২৪ ডেস্ক- গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছেন বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, এমন গুঞ্জন এখন শহরজুড়ে। ইউএনওকে লাঞ্ছিত করা, পুলিশের উপর হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুঞ্জনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মেয়রের বাড়ি ঘিরে রেখেছে দাঙ্গা পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর থেকেই একদল দাঙ্গা পুলিশ মেয়রের বাসা ঘিরে রেখেছে। কালিবাড়ি সড়ক, যেখানে মেয়রের বাসভবন, সে রাস্তাটিও যান চলাচলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে বাস, লঞ্চ চলাচল বন্ধের পর এবার নগরীতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মোড়ে একদল অল্প বয়সী তরুণদের লাঠি হাতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে দেখা যায়।
এদিকে মেয়রের গ্রেপ্তার গুঞ্জনে নগরীর পরিস্থিতি আরো অবনতির আশংকায় মোড়ে মোড়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। ভোর রাতেই মেয়র বিভিন্ন চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেলে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে মেয়র তার বাসভবন থেকে ফেসবুক লাইভেও আবারও পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
শোক দিবসের ব্যানার অপসারণের জেরে সিটি করপোরেশন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (ইউএনও) আনসার বাহিনী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয় বুধবার মধ্যরাতে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বুধবার রাতে শোক দিবসের ব্যানার খুলতে যান বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা। এ সময় ব্যানার খোলার কারণ জানা নিয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমানের সঙ্গে সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা-কাটাকাটি হয়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ওই সময় ইউএনওর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরে সেখানে উপস্থিত আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হলে উপস্থিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ইউএনওর বাসায় হামলার চেষ্টা চালান। এ সময় আনসার সদস্যরা গুলি ছুড়লে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ চারজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবলীগ নেতা শাহরিয়ার বাবু, হারুন অর রশিদ ও তানভীরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের পর ইউএনও কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ফের ইউএনওর বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেন।
এ সময় পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন। রাতের এ ঘটনার পর থেকেই থমথমে বরিশাল নগরী।
এদিকে ইউএনও’র বাসভবনে হামলার ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালানা করে ১৩ জনকে আটক করেছি।’
