আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনী সরকারকে হটিয়ে দীর্ঘ ২ দশক পর তালেবানের কাবুল জয়কে “তালেবান দাসত্বের শিকল ভেঙেছে” বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন মানসিক দাসত্বের শামিল। আর মানসিক দাসত্ব শারিরীক দাসত্বের চেয়েও ভয়ানক। সাংস্কৃতিক দাসত্বের শিকল ভাঙা কঠিন। আফগানিস্তানে তালেবান দাসত্বের শিকল ভেঙেছে।
সোমবার পাকিস্তানে জাতীয় একমুখী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন বিষয়ক এক সভায় ইমরান একথা বলেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য ডন’ পত্রিকা।
সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে এক বক্তব্যে পাকিস্তানে ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশোনার সমালোচনা করার মধ্যেই আফগানিস্তান প্রসঙ্গ টানেন ইমরান খান।
অন্যের সংস্কৃতি ঘাড়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া দাসত্বের নামান্তর উল্লেখ করে ইমরান বলেন, “‘যখন আপনি অন্য কারও সংস্কৃতিকে উন্নত মনে করে তা গ্রহণ করবেন, তখনই আপনি সেই সংস্কৃতির দাসে পরিণত হবেন।”
“মানসিক এই দাসত্ব প্রকৃত দাসত্বের চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ, দাসের মনোভাব নিয়ে বড় কিছু কখনও অর্জন করা যায় না। তাই এই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলাটা জরুরি।”
আফগানিস্তান তালেবানের কব্জায় চলে যাওয়ায় খোদ আফগানরাসহ যখন গোটা বিশ্ব শঙ্কিত এবং তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ারও ডাক দিয়েছে কোনও কোনও দেশ, ঠিক তখনই সেখানকার পট পরিবর্তন নিয়ে প্রসংশার সুর শোনা গেল ইমরানের কণ্ঠে।
আফগানিস্তানে ১৯৯৬ সালের তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশ। তার মধ্যে ছিল পাকিস্তান। এবারও পাকিস্তান জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে আফগানিস্তান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, পাকিস্তানের প্রধান প্রধান ধর্মীয় রাজনৈতিক দল জামাত-ই-ইসলাম, জেইউআই-এফ তালেবানের সাম্প্রতিক সাফল্যে তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মিষ্টি বিতরণ করে তালেবানের জয়ও উদযাপন করেছেন এইসব দলের কোনও কোনও সদস্য।
রোববার রাজধানী কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরই আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় তালেবান। তার আগে রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি।
