নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে সিটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে কিছু সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর গুলশান থানায় সোমবার রাতে এই জিডি করা হয় বলে জানিয়েছে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাশরুর আরেফিন।
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, যেসব সংবাদমাধ্যম তাকেসহ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দুই-এক দিনের মধ্যে মামলাও করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকেলে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘মামলার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই মামলা করা হবে।’
চিত্রনায়িকা পরীমনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে পরীমনিকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার গাড়ি উপহার দেয়ার অভিযোগ তোলা হয় সিটি ব্যাংকের এমডি মাশরুর আরেফিনের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার বরাত ছাড়াই এসব প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নামও উল্লেখ করা হয়।
এর প্রতিবাদ জানিয়ে মাশরুর আরেফিন সোমবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তিনি পরীমনিকে চিনতেন না কখনো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত তার নামও শোনেননি এবং তার সঙ্গে কখনো কথাও হয়নি।
বার এই ঘটনায় ঢাকার গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি চক্র সিটি ব্যাংক থেকে চাঁদাবাজির পায়তারা করছে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ঢাকা পোস্টকে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে রয়েছে।
জিডিতে ব্যাংকের হেড অব কোর্ট অপারেশন গাজী এম শওকত হাসান লিখেছেন, সিটি ব্যাংক অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন অভিনেত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত বলে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করে। এই তথ্যকে পুঁজি করে সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষী, প্রতারক ও চাঁদাবাজ বিভিন্নভাবে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাজেহাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে অথবা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, এরূপ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিবর্গ এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় এবং ব্যাংক হতে অবৈধ পন্থায় অর্থ লাভের আশায় বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছে এবং ভবিষ্যতে করতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
এছাড়াও বর্তমানে এসব নিউজের কারণে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক উদ্বিগ্নতায় ভুগছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়, এসব তথ্য ছড়ানোর কারণে চাঁদাবাজির উদ্দেশে সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আশঙ্কা থাকে বিধায় এরূপ চাঁদাবাজ-প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করাসহ তাদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
