ঢাকা    ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ প্যারাসিটামলের অভাব, কোথাও কোথাও দাম বেড়ে তিনগুণ !

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২১

হঠাৎ প্যারাসিটামলের অভাব, কোথাও কোথাও দাম বেড়ে তিনগুণ !

নজর২৪ ডেস্ক- চট্টগ্রাম নগরীতে হঠাৎ করেই সংকট তৈরি হয়েছে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধের। নাপা, নাপা এক্সটা ও নাপা এক্সটেনড— কোনোটিই সেভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খুঁজে কোনো কোনো দোকানে মিললেও রাখা হচ্ছে বাড়তি দাম। প্রতি পাতায় দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্তও। ওষুধ বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেকে প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত ওষুধ কিনে রাখছেন। এ থেকেও সংকট তৈরি হয়েছে।

 

দেশে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বর, মৌসুমী সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়েছে। বাড়ছে করোনা রোগী। আর এমন সময়েই প্রয়োজনীয় একটি ওষুধের আচমকা সংকট তৈরি হল চট্টগ্রামে।

 

নগরীর ওষুধপাড়া হিসেবে পরিচিত জামালখান, জিইসি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের এলাকা ছাড়াও পাইকারি ওষুধের প্রধান কেন্দ্র হাজারী লেইনে খোঁজ নিয়ে মিলেছে এর সত্যতা। এসব জায়গাতেই শুধু নয়, অলিগলির ফার্মেসিগুলোতেও অবস্থা একই।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাপা এক্সটেন্ড একপাতার দাম ১৮ টাকা। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা। কোনো কোনো ফামের্সি আবার নিচ্ছে ৩০ টাকাও। নাপা এক্সটা একপাতার দাম ৩০ টাকা। এখন সেটা ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে আবার সেটি ৪০ টাকাতেও বিক্রি করা হচ্ছে। আর নরমাল নাপা একপাতার দাম ৮ টাকা হলেও এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়।

 

জানা গেছে, এই তিন ওষুধই বেক্সিমকো ফার্মার তৈরি। অন্য গ্রুপের এইসসহ অন্য ওষুধ থাকলেও জ্বর ও সর্দিজাতীয় ওষুধে বেক্সিমকোর প্যারাসিটামলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

 

চিকিৎসকদের মতে, সর্দি জ্বর ও মাথাব্যথা নিরাময়ে অন্যতম প্রাথমিক ওষুধ ‘প্যারাসিটামল’। যেহেতু এখন করোনা, ডেঙ্গু এবং সিজনাল ভাইরাল জ্বরের কারণে জ্বর ও ঠাণ্ডায় আক্রান্ত রোগী মিলছে ঘরে ঘরে। তাই এর চাহিদাও প্রচুর। সাধারণ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সামান্য জ্বর হলেই একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিচ্ছেন। করোনাকালীন এ চর্চাটা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বহুগুণ।

 

ওষুধ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। গত বছরও হয়েছিল এটি। এবারও হয়েছে। ঈদের পর দেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ কেনার ধুম লেগে গেছে।

 

আর এই সুবাদে গত অন্তত এক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কমে গেছে প্যারাসিটামলের। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কোনো ফার্মেসিতে মিললেও বেশিরভাগ জায়গাতেই তৈরি হয়েছে হঠাৎ সংকট।

 

রোববার (৮ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি বড় ফার্মেসিতে যোগাযোগ করা হলে তারা প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ সরবরাহে সংকটের কথা জানিয়েছেন। তবে ওষুধ বিক্রেতারা এও বলছেন, অনেকে প্রয়োজন ছাড়াই অতিরিক্ত ওষুধ কিনে রাখছেন। সংকটের অন্যতম মূল কারণও এটি। তারা জানান, অনেকে একসঙ্গে ১০ পাতা করেও কিনে রাখছেন বাসায়।

 

বেক্সিমকো চট্টগ্রাম জোনের সেলস সুপারভাইজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩০০ থেকে ৫০০ বক্স সরবরাহ করতাম। এখন চাহিদা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। কিন্তু আমরা সরবরাহ দিতে পারছি না।’

 

এদিকে, রাজধানী ঢাকার ফার্মেসিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সেই অর্থে কোনো সংকট নেই। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণ ওষুধ মজুত রাখার প্রবণতায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া অনেকে না জেনে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে প্রতি বেলায় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করছেন। আবার সামান্য সর্দি বা ঠান্ডা লাগলেই প্যারাসিটামল খাচ্ছেন অনেকে।

 

লাজ ফার্মার জিএম আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘ঢাকায় একটু সংকট আছে। কিন্তু বেশি নয়। মাঝখানে নাপার একটু ঘাটতি ছিল। অনেক বেশি সংকট বা একেবারেই নেই— এমন তথ্য সত্য নয়। দেশে নাপাটা বেশি চলে। করোনার কারণে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বেশি কিনে রাখছেন। আমরা সমন্বয় করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

 

‘কেউ হয়তো ১০ পাতা নাপা চাচ্ছেন। তাদের আমরা তিন পাতা দিচ্ছি। কারণ, সবাই যেন পান। যে সংকট তৈরি হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে কেনার কারণে। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

 

প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের সংকট নিয়ে কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তা কেটে যাবে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদে তিন দিন ছুটি থাকায় বেক্সিমকোর উৎপাদন বন্ধ ছিল। আমাদের নাপাটা একটা ব্র্যান্ড। বেশি চলে। তিন দিন উৎপাদন বন্ধের কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আমরা জেলা শহরগুলোতে বর্তমানে আগের চেয়ে ৩০ ভাগ ওষুধ সাপ্লাই দিচ্ছি। চলতি সপ্তাহেই এ সংকট কেটে যাবে, এটা আর থাকবে না।’

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি সাইফুজ্জামান বলেন, ‘করোনার সেই অর্থে কোনো ওষুধ নাই। এটার জন্য চিকিৎসকরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধগুলো রেফার করেন। প্যারাসিটামল ওষুধের কোনো সংকট নাই, ঘাটতিও নাই। এটা মূলত মেডিসিনের দোকানদারদের কারসাজি। বলেন, পাওয়া যাচ্ছে না, কম আসছে। এ সুযোগে তারা বেশি দাম রাখেন।’