Home ফিচার তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার ব্যাংকে ১১০ কোটি টাকা লেনদেন !

তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার ব্যাংকে ১১০ কোটি টাকা লেনদেন !

0
147

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করেন তিনি। নন-এমপিও হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসনিক কাজকর্মও করেন।

 

সাকুল্যে বেতন পান তিনি ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের জন্য আরও কিছু ভাতা পান তিনি। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে একশ’ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন। তাও একটি-দুটি নয়, ৯৭টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে তার।

 

ঢাকায় একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক তিনি, ব্যবহার করেন দামি গাড়িও। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আতিকুর রহমান খান। স্কুলের ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমানের ৯৭টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংকে ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।

 

এদিকে সামান্য বেতনের চাকরি করে আতিকের বিশাল অর্থ-সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নজরে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগেরও। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে তারা।

 

এ বিষয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহীন আরা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।’

 

আতিকের অঢেল সম্পদের তদন্তে নেমেছে দুদক। তার বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আবেদন করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক মাহবুবুল আলম।

 

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানকালে আতিক যাতে বিদেশে যেতে না পারেন সেজন্য আদালত তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানান দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

 

আতিককে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধ ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুদকের অভিযোগে।

 

এতে বলা হয়েছে, তিনটি ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস (পোশাক), ক্যান্টিন, লাইব্রেরি সবই বেনামে তার নিয়ন্ত্রণে। এমনকি স্কুলের সামনে ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়েও তিনি আয় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠানে যত ধরনের কেনাকাটা, উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ হয় তার সবই করেন আতিক। দরপত্রেও অংশ নেয় নামে-বেনামে তারই প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলে বড় ধরনের লুটপাট।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এর বেশির ভাগই হয়েছে আতিকের মাধ্যমে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সকল শাখাকেই জিম্মি করে রেখেছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here