‘শত্রুপক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে’, মুখ খুললেন পরীমণির খালা

নজর২৪ ডেস্ক- র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটকের পর ঢাকাই ছবির আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির স্বজনরা বলছেন, এটি একটি নতুন ষড়ষন্ত্র। তাকে ফাঁসাতেই তার বিরুদ্ধে শত্রপক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে।

 

সরেজমিনে পিরোজপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি ইউনিয়নের সিংহখালী গ্রামে কথা হয় পরীমণির ছোট খালা তাসলিমা বেগম ও খালু জসিম উদ্দিসহ স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে। তাদের দাবি, পরীমণির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন এতে জড়িত।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীমণির খালা তাসলিমা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকায় যাদের সঙ্গে স্মৃতির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তাদের সঙ্গে তার টাকার সম্পর্ক। তারা কেউই এখন চাইবে না তার ভালো হোক। তাই আমি মনে করি, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ তার আশপাশে যারা ছিল, তারাই এখন ষড়যন্ত্র করে স্মৃতিকে ফাঁসিয়েছে। এখন এই সুযোগে নাসির উদ্দিন মামলা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা তার মুক্তি চাই।

 

পরীমণির বাবা মনিরুল ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সালাবাদ ইউনিয়নের বাকা গ্রামে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগীরথপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন তিনি। পার্শ্ববর্তী সিংহখালী গ্রামের বাসিন্দা সামছুল হক গাজীর বড় মেয়ে সালমা সুলতানাকে (পরীমণির মা) বিয়ে করেন তিনি। পরীমণির বাবা-মা দুজনই মারা যাওয়ার পর নানার বাড়িতেই থেকে যান তিনি।

 

পরীর চাচাতো খালা নুরজাহান বেগম বলেন, আমার চাচাতো বোনের মেয়ে স্মৃতি। তার নানি ছিলেন প্রধান শিক্ষক। তার বংশের সবাই ছিলেন শিক্ষক। এখন সে ঢাকায় গিয়ে কী করে। আমরা জানি না। আমরা তার খারাপটা দেখিনি কখনো। তবে যেখানেই যাই, সবাই তার নামে খারাপ বলছে।

 

আরেক প্রতিবেশী রহমত মিয়া বলেন, সে এখানে লেখাপড়া করে মানুষ হইছে। প্রাইমারিতে বৃত্তি পেয়ে ভগীরথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। তারপর ভান্ডারিয়া থেকে চলে যায়। আমরা জানি তার মদ-গাঁজা খাওয়ার মতো কোনো রেকর্ড নেই। এটা নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে।

 

আব্দুর রহিম নামের আরেক প্রতিবেশী বলেন, মেয়েটা (পরীমণি) ভান্ডারিয়া থেকে এসএসসি পাস করার পর ঢাকায় গিয়ে যোগ দেয় অভিনয়জগতে। চোখে যেটা দেখিনাই, সেটা কীভাবে বলব। তবে র‌্যাব যেভাবে তাকে ধরেছে, তাতে মনে হয় কোনো অবৈধ কাজ করেছে বলেই ধরেছে। তবে সে যেন আর কোনো অপরাধে লিপ্ত না হয়, সেটা আমাদের অনুরোধ।

 

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করে র‌্যাব।

 

গ্রেফতারের পর এতদিন তিনি সিআইডি হেফাজতে ছিলেন। দুই ধাপে ৬ দিন রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল তাকে। এরপর শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরীমনির আইনজীবী জামিন চাইলেও আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেন। পাঠানো হয় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *